Article By – সুনন্দা সেন

২০২৩-২৪ অর্থবছরে গত ৩০ বছরের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে রেলের স্ক্র্যাপ বিক্রি করে আয় করেছে উত্তর – পূর্ব সীমান্ত রেল। মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২০২ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা যেখানে তার আগের বছর স্ক্র্যাপ বিক্রি করে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল আয় করেছিল ১৮৬ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা। শুনে অবাক লাগলেও একথা সত্য যে গত অর্থবছরে রেলের স্ক্র্যাপ বিক্রি করে আয়ের পরিমাণ একবছরে ৩৪.৬৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত এই বিষয়টি ভারতীয় রেলের ‘জিরো স্ক্র্যাপ মিশন’– এর উদ্যোগের অংশ।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের দ্বারা প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে তারা ২৬,২৫০ মেট্রিকটন রেলের বর্জ্য, লাইন বিক্রি করেছিল। এছাড়াও ১৪,০০০ মেট্রিক টন অন্যান্য বর্জ্য বিক্রি করেছিল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল। আর চারটে ডিজেল লোকোমোটিভ, ১২৪টি বাতিল কামরা এবং ১৬৩ টি ওয়াগ বিক্রি করেছিল। সেই জায়গায় ২০২৩-২৪ অর্থবছর লোহার স্ক্র্যাপ বিক্রি হয়েছে ২৩,৬২৮ মেট্রিকটন এবং ফেলে দেওয়া বিভিন্ন লোহার বর্জ্য সামগ্রি, লাইন বিক্রি করা হয়েছে ১৯,১৯২ মেট্রিক টন। এছাড়া ২৬ টি ডিজেল লোকোমোটিভ, ২৪৭ টি কোচ এবং ২৪৮ টি ওয়াগন বিক্রি করা হয়েছে।
ভারতীয় রেল ‘জিরো স্ক্র্যাপ মিশন’- এর মাধ্যমে বর্জ্যমুক্ত রেল বিভাগের স্বপ্ন সফল করার পথে রয়েছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আধিকারিকদের মতে, রেলের বর্জ্য অনেক জায়গা ক্রয়ও করে রাখে। আবার লোহার স্ক্র্যাপ বিক্রির সময় এমন কিছু অংশ বেরিয়ে আসে যা পুনরায় ব্যবহার করা যায়। বিক্রির মাধ্যমে সেগুলিও যাচাই হয়ে যায়। রেলের লোহার স্ক্র্যাপ সহ একাধিক বর্জ্যর বিক্রির মাধ্যমে রেল প্রত্যেক অর্থবছরের শেষে মোটা অংকের আয় করে। যা রেলের বিভিন্ন বিভাগের উন্নয়নে ব্যবহার করা হয়।
গত অর্থবছরের ২০২,৪৮,০০,০০০ টাকা ভারতীয় রেল আগামীতে যাত্রী পরিষেবা আরও উন্নত করার কাজে ব্যবহার করবে। পাশাপাশি জানা যাচ্ছে চলতি অর্থবছরের অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই মাস পর্যন্ত উত্তর -পূর্ব সীমান্ত রেলের লোহার স্ক্র্যাপ সহ একাধিক বর্জ্য বিক্রি করে ৪১,৫৮,০০,০০০ টাকা আয় করেছে। রেল কতৃপক্ষ অনুমান করছে যে, এবছর রেলবিভাগ এই ক্ষেত্র থেকে প্রায় ২৮০ কোটি টাকা আয় করবে।





