Article By – সুনন্দা সেন

বিশ্বাবাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমলেও রুপির উপর চাপ পুরোপুরি কাটছে না। আর এর মূল কারণ, মার্কিন ডলারের পাওয়ার এবং বাজারে ডলারের চাহিদা। ২৭ আগস্ট, ২০২৬-এ রুপি দিনের লেনদেন প্রায় ৯৫.৪৬ টাকা প্রতি মার্কিন ডলারের কাছাকাছি ছিল এবং ছয় পয়সার একটি খুব সংকীর্ন রেঞ্জে ঘোরাফেরা করছিল। আর রুপির জন্য সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক অবশ্যই কমতে থাকা অপরিশোধিত তেলের দাম। আজ ব্রেন্ট ক্রডের দাম প্রায় ০.৫% কমে ব্যারেল প্রতি ৮৭.৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ভারতের মতো বিশ্বের অন্যতম বড় তেল আমদানিকারক দেশের ক্ষেত্রে তেলের দাম কমলে আমদানি খাতে ডলারের প্রয়োজন কমে এবং বাণিজ্য ঘাটতি ও মুদ্রাস্ফীতির উপর চাপও কিছুটা কমতে পারে। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের চাহিদা এখনও শক্তিশালী। পাশাপাশি ভারতের আমদানিকারক সংস্থাগুলির ডলার কেনার চাহিদাও রুপির উপর চাপ তৈরি করছে। তবে এটাই প্রথম নয়, এর আগেও দেখা গেছে যে তেলের দাম দ্রুত কমলেও আমদানিকারকদের ডলার চাহিদা সেই সুবিধাকে অনেকটাই মুছে দিয়েছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডলার-রুপি ফিউচার বাজারের কার্যকলাপ। ২৭ আগস্ট আগস্ট মাসের USD/INR ফিউচার কনট্রাক্টের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ডলারের চাহিদা বেড়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, NSE-তে এই কনট্রাক্টগুলির ওপেন ইন্টারেস্ট প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি ছিল। ফলে স্পট মার্কেটে রুপির ওঠানামা সীমিত থাকলেও ডলার-রুপির ডেরিভেটিভ বাজারে যথেষ্ট চাপ দেখা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নজরে রয়েছে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া বা RBI। গত কয়েক সপ্তাহে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বাজারে ডলার বিক্রি করে রুপিকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছে। ২৪ আগস্টও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলিকে ডলার বিক্রি করতে দেখা যায়, যা বাজারে RBI-এর হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়। এর আগে ১৮ আগস্টও RBI স্পট, এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফিউচার এবং নন-ডেলিভারেবল ফরোয়ার্ড সহ একাধিক বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছিলেন। সেই সময় ব্রেণ্ট ক্রুড প্রায় ৯২ ডলারের কাছাকাছি উঠে যাওয়ায় রুপির উপর চাপ আরও বেড়েছিল।




