Article By – সুনন্দা সেন

২০২৫ সালে ভারতের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে একদিকে যেমন বিনিয়োগে কিছুটা মন্দা দেখা গেছে, ঠিক তেমনই অন্যদিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে গড়ে উঠেছে নতুন ইতিহাস। সাম্প্রতিক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ভারতীয় স্টার্টআপগুলো মোট প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ফান্ডিং তুলতে পেরেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০% কম। তবে ফান্ডিং কমলেও IPO মার্কেটের ক্ষেত্রে ২০২৫ ছিল ঐতিহাসিক সাল। চলতি বছরে রেকর্ড ১৮টি ভারতীয় স্টার্টআপ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। যা এক বছরীয় ক্যালেন্ডারের সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্তি অর্থাৎ ২০২৫ সাল ভারতীয় মার্কেটের জন্য এক ধরনের রূপান্তরের বছর।
একদিকে IPO-তে রেকর্ড সাফল্য এবং অন্যদিকে ফান্ডিংয়ে সংযম। যা দেখে বিশেষজ্ঞরা বলছেন,এই পতনের মূল কারণ হলো বিনিয়োগকারীদের সতর্ক মনোভাব। বড় অঙ্কের লেটস্টেজ ডিল কমেছে এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রাইভেট ইক্যুইটি সংস্থাগুলি এখন লাভজনক, ক্যাশ ফ্লো ও টেকসই ব্যবসায়ী মডেলের উপর বেশি জোর দিচ্ছে। এক সময় যেখানে দ্রুত বৃদ্ধি ছিল প্রধান মানদণ্ড, সেখানে ২০২৫ সালে গুরুত্ব পেয়েছে “কোয়ালিটি ও প্রফিটেবিলিটি”। সাথে আরও জানান যে এই প্রবণতা দেখাচ্ছে যে ভারতীয় স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে এবং প্রাইভেট ফান্ডিংয়ের উপর নির্ভরতা কমিয়ে পাবলিক মার্কেটের দিকে ঝুঁকছে।
এই IPO বা প্রাথমিক পাবলিক অফারের বুমের ফলে প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাথমিক বিনিয়োগকারীরা একদিকে যেমন এক্সিটের সুযোগ পেয়েছেন, তেমনই সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি ও ডিজিটাল কোম্পানিতে অংশীদার হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যেসব স্টার্টআপ IPO এনেছে তাদের বেশিরভাগই তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল আয়, শক্তিশালী গ্রাহকভিত্তি এবং পরিষ্কার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এসেছে। এছাড়া দুই বিপরীত প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভারতীয় স্টার্টআপ জগৎ এখন পরবর্তী, আরও পরিণত পর্যায়ে প্রবেশ করছে।




