Article By – সুনন্দা সেন

চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬ সালে) ভারতের এডিবেল অয়েল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা। অনুমান করা হচ্ছে, আগামী অর্থবছরে অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের মোট ভোজ্য তেল উৎপাদন প্রায় ৯.৬ মিলিয়ন টনে পৌঁছাবে। আর এর পেছনের মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে তৈলবীজ চাষের জমির বৃদ্ধি, উন্নত ফলন এবং সরকার প্রদত্ত সহায়তা কর্মসূচীর পরিখ্যান বৃদ্ধির প্রভাব। তবে উৎপাদন বৃদ্ধির পরেও ভারতের ভোজ্য তেলের চাহিদা এতটাই বেশি যে আমদানির উপর নির্ভরতা পুরোপুরি কমছে না।
হিসেব অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ সালে দেশে ভোজ্য তেলের মোট আমদানি প্রায় ১৬.৭ মিলিয়ন টন হতে পারে। অর্থাৎ, দেশীয় উৎপাদন বাড়লেও মোট চাহিদার একটি বড় অংশ এখনও বিদেশ থেকে আমদানি করেই মেটাতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরিষা, সয়াবিন ও সূর্যমুখীর মতো প্রধান তেলবীজ ফসলে উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। ভালো বর্ষা, আধুনিক চাষ পদ্ধতি এবং ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নীতির কারণে কৃষকরা তেলবীজ চাষে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এর ফলে গত কয়েক বছরের তুলনায় উৎপাদনে কিছুটা গতি এসেছে। অন্যদিকে, ভোজ্য তেলের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শহরায়ন এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে।
এই বাড়তি চাহিদার কারণেই পাম তেল, সয়াবিন তেল ও সূর্যমুখী তেলের মতো পণ্যের আমদানি এখনও উচ্চ স্তরে রয়েছে। বিশেষ করে পাম তেলের ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আমদানিকারক দেশ। সরকার দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে ‘ন্যাশনাল মিশন অন এডিবল অয়েল’-এর মতো উদ্যোগ নিয়েছে। লক্ষ্য হল দীর্ঘমেয়াদে আমদানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে আত্মনির্ভরতা বাড়ানো। তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই লক্ষ্য পূরণ করতে আরও সময় লাগবে এবং ততদিন পর্যন্ত আমদানির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণই থাকবে।




