Article By – সুনন্দা সেন

বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং বাণিজ্যিক শুল্কের চাপ সত্ত্বেও ভারতের রপ্তানি খাত থেকে এল ইতিবাচক বার্তা। সরকারি ও বাণিজ্য সংক্রান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে ভারতের মোট রপ্তানি ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রধান বাজারগুলিতে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যার ফলে দেশের বাণিজ্য ঘাটতিও সংকুচিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রপ্তানি বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, ইলেকট্রনিক্স, ফার্মাসিউটিক্যালস, কেমিক্যাল এবং টেক্সটাইল খাতে চাহিদা বৃদ্ধি ভারতের রপ্তানিকে গতি দিয়েছে।
পাশাপাশি মার্কিন বাজারে ভোক্তা চাহিদা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকায় ভারতীয় পণ্যের রপ্তানি বাড়তে সহায়তা করেছে। নভেম্বর মাসে আমদানির তুলনায় রপ্তানির পারফরম্যান্স ভালো হওয়ায় ট্রেড ডেফিসিট বা বাণিজ্য ঘাটতি ৫–৬ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ভারসাম্যের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক ইঙ্গিত এবং রুপির উপর চাপ কিছুটা হলেও কমাতে পারে। সরকারি মহলের বক্তব্য, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা (PLI) প্রকল্প এবং রপ্তানি সহায়ক নীতির সুফল এখন ধীরে ধীরে বাস্তবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
এছাড়া নতুন বাজারে প্রবেশ, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) এবং লজিস্টিক খরচ কমানোর উদ্যোগও রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই ইতিবাচক প্রবণতা ধরে রাখতে হলে বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকি, উচ্চ সুদের হার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির পরিবর্তনের দিকে সতর্ক নজর রাখা জরুরি। আগামী মাসগুলোতে ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে চাহিদা কেমন থাকে, তার উপর রপ্তানির গতি অনেকটাই নির্ভর করবে। সব মিলিয়ে, নভেম্বর মাসের রপ্তানি পরিসংখ্যান প্রমাণ করছে যে বৈশ্বিক প্রতিকূলতার মধ্যেও ভারতের রপ্তানি খাত ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এই গতি বজায় থাকলে আগামী অর্থবর্ষে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য আরও শক্ত ভিতের উপর দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।




