Article By – সুনন্দা সেন

BMI (ফিচ সলিউশনস)- এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে (FY27) ভারতের আর্থিক ঘাটতি GDP-এর প্রায় ৪.৬%- এ পৌঁছাতে পারে। যা সরকারের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা ৪.৩%-এর থেকে বেশি। এই পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আর্থিক সংহতির পথে অগ্রগতি থাকলেও ব্যয় ও রাজস্বের চাপে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। BMI-এর মতে, সরকার অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক খাত এবং দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধিকে সমর্থন দিতে উচ্চ ব্যয় বজায় রাখতে পারে। ‘বিকশিত ভারত’ লক্ষ্যকে সামনে রেখে রেল, সড়ক, নগর পরিকাঠামো ও উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজস্ব না বাড়লে ঘাটতি বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক।
রাজস্বের দিক থেকে কর সংগ্রহে চাপ অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আয়কর ও জিএসটি কাঠামোয় সংস্কার, শুল্ক যৌক্তিকীকরণ এবং কিছু করছাড়ের ফলে স্বল্পমেয়াদে সরকারের আয় প্রত্যাশার তুলনায় কম হতে পারে। পাশাপাশি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বাণিজ্যিক পরিবেশের ওঠানামা রপ্তানি-নির্ভর আয়কেও প্রভাবিত করতে পারে। প্রতিবেদনটি আরও বলছে, প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেটও চাপে পড়তে পারে, যা সামগ্রিক আর্থিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলবে।
তবে BMI স্পষ্ট করেছে, উচ্চ ব্যয় মানেই অনিয়ন্ত্রিত ঘাটতি নয়, যদি রাজস্ব সংগ্রহ শক্তিশালী করা যায়। করভিত্তি বিস্তার, ডিজিটাল কর প্রশাসন এবং সম্পদ বিক্রি বা মনিটাইজেশনের মতো পদক্ষেপ নিলে ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবুও বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রকৃত ঘাটতি লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকার সম্ভাবনাই বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পূর্বাভাস বাজার ও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারকে বাস্তবসম্মত রাজস্ব অনুমান, ব্যয়ের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং স্বচ্ছ নীতিগত বার্তা দিতে হবে। তা না হলে সুদের হার, সরকারি ধার এবং রেটিং-সংক্রান্ত মূল্যায়নে প্রভাব পড়তে পারে। সব মিলিয়ে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভারতের অর্থনৈতিক নীতিতে বৃদ্ধি ও সংহতির ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে BMI-এর এই রিপোর্ট।




