Article By – সুনন্দা সেন

২০২৫ সালে ভারতের পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানি একটি নতুন রেকর্ড গড়েছে। সরকারি ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে ভারত থেকে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের রপ্তানির পরিমাণ ও মূল্য দু-দিক থেকেই সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধি এবং ভারতের পরিশোধন ক্ষমতার ধারাবাহিক সম্প্রসারণ এই সাফল্যের প্রধান কারণ। ২০২৫ সালে ডিজেল, পেট্রোল, এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল, ন্যাফথা এবং অন্যান্য পরিশোধিত পণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালে পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানিতে রেকর্ড সাফল্য ভারতের জ্বালানি খাতের মজবুত ভিতকে তুলে ধরেছে।
পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, ইউরোপ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ভারতের প্রধান রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় বাজারে জ্বালানির স্থিতিশীল চাহিদা ভারতের রপ্তানি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের শক্তিশালী রিফাইনারি অবকাঠামো এই রেকর্ড সাফল্যের মূল ভিত্তি। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, ইন্ডিয়ান অয়েল, BPCL এবং HPCL-এর মতো বড় সংস্থাগুলির আধুনিক ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন রিফাইনারিগুলি আন্তর্জাতিক মানের জ্বালানি উৎপাদনে সক্ষম। এর ফলে ভারত শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিশ্ব বাজারেও প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য সরবরাহ করতে পারছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দামে ওঠানামার মধ্যেও ভারত পরিশোধিত পণ্যের রপ্তানিতে সুবিধাজনক অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে। তুলনামূলকভাবে কম প্রক্রিয়াকরণ খরচ, দক্ষ লজিস্টিক্স এবং বন্দর অবকাঠামোর উন্নয়ন ভারতের পক্ষে কাজ করেছে। এর সঙ্গে সরকারের রপ্তানি-বান্ধব নীতি বাণিজ্যিক চুক্তিগুলিও রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানি বাড়ার ফলে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে সহায়তা মিলেছে। বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।




