Article By – সুনন্দা সেন

২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে দেশের টেক্সটাইল ও পোশাক ইন্ডাস্ট্রির রপ্তানি সামান্য হ্রাস পেয়েছে। সরকারি ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল রপ্তানি প্রায় ৩.৭৫% কমেছে। বছরের শুরুতেই এই পতন শিল্প মহলে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করলে, বিশেষজ্ঞরা এটিকে আপাতত সাময়িক চাপ হিসেবেই দেখছেন। শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে এখনও ভোক্তা চাহিদা পুরোপুরি শক্তিশালী হয়ে ওঠেনি। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলিতে খুচরো বিক্রি ধীরগতির থাকায় নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে আমদানিকারক সংস্থাগুলি সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
যার ফলে ভারতের গার্মেন্ট ও ফ্যাব্রিক রপ্তানিকারক সংস্থাগুলির কাছে নতুন অর্ডার কম এসেছে। আর সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে ছোট ও মাঝারি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি। কারণ বড় রপ্তানিকারকদের তুলনায় তাদের আর্থিক সুরক্ষা কম এবং অর্ডার কমলে উৎপাদন দ্রুত কমাতে হয়। কিছু সংস্থা জানিয়েছে, উৎপাদন খরচ, বিদ্যুৎ ব্যয় এবং লজিস্টিক খরচও এখনও চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। তবে এই নেতিবাচক ছবির মাঝেই সামনে এসেছে একটি বড় ইতিবাচক খবর। সম্প্রতি ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য সমঝোতা হওয়ার পর শিল্পে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
শিল্প সংগঠনগুলির মতে, এই সমঝোতার ফলে মার্কিন বাজারে ভারতীয় টেক্সটাইল ও পোশাকের প্রবেশ আরও সহজ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক সংক্রান্ত সুবিধা, দ্রুত কাস্টমস প্রক্রিয়া এবং বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল রপ্তানির অন্যতম বৃহৎ বাজার। ফলে সেখানে সামান্য নীতি সহায়তাও রপ্তানির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। রপ্তানিকারকদের আশা, যদি মার্কিন বাজারে অর্ডার বাড়ে, তাহলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রপ্তানি আবার ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে ফিরতে পারে।
আবার অর্থনীতিবিদদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতির ধীরগতির প্রভাব এখনও রপ্তানি খাতে পড়ছে। তবু ভারতের উৎপাদন ক্ষমতা, দক্ষ শ্রমশক্তি এবং তুলনামূলক প্রতিযোগিতামূলক দাম আন্তর্জাতিক বাজারে দেশকে শক্ত অবস্থানে রাখছে। সরকারও অবকাঠামো উন্নয়ন, রপ্তানি সহায়তা এবং উৎপাদন বৃদ্ধির নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে এই শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।




