আপনি কখনও ভেবে দেখেছেন আপনার নিজের net worth কত? আপনি অর্থনৈতিক দিক থেকে কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন সেটা জানার জন্য net worth একটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রিক। এছাড়াও ভবিষ্যতে নিজের তৈরি করা লক্ষ্যে পৌঁছাতেও এই মেট্রিকটি জানা দরকার। আপনি সদ্য আর্থিক যাত্রা শুরু করুন বা বৃহত্তর আর্থিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে বিনিয়োগ করুন, সব ক্ষেত্রেই net worth জানা জরুরি। আপনি গাড়ি কিনতে পারেন, বাড়ি কিনতে পারেন বা ব্যাংকে প্রচুর অর্থ থাকতে পারে আপনার। এগুলো যোগ করলে অঙ্কটা বিশাল মনে হবে। কিন্তু net worth জানতে শুধু আপনার নিজের কতটুকু অর্থ রয়েছে সেটা জানলেই হবে না, কী কী ঋণ রয়েছে আপনার সেটাও জানা দরকার।
আপনার অ্যাসেট অর্থাৎ যা কিছু সম্পত্তি ও লিয়াবিলিটি অর্থাৎ যা কিছু দায় মিলিয়েই আপনার ব্যক্তিগত net worth বের করতে হবে। তার আগে জেনে নিই কেন প্রয়োজন net worth জানা।
Net worth জানা জরুরি কেন?
- বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি বোঝা : বর্তমানে আপনি আর্থিকভাবে কতটা সচ্ছল বা অসচ্ছল বুঝতে সাহায্য করে net worth। আপনার মোট সম্পদ থেকে মোট দায় বাদ দেওয়ার পর কতটা অর্থ থাকছে সেই পরিমাণ দেখায় এই মেট্রিকটি।
- আর্থিক লক্ষ্যে পৌঁছতে সাহায্য করে : আপনি যদি নিজের net worth-এর নিয়মিত track রাখেন তাহলে নিজের আর্থিক পরিস্থিতি কেমনভাবে উন্নত হচ্ছে সেদিকে নজর রাখতে পারবেন। ফলে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য তাগিদ পাওয়া যাবে।
- সঞ্চয়ের মনোভাব তৈরি হবে : আপনি যখন নিজের net worth দেখেন তখন নিজের করা খরচ বা সঞ্চয়ের প্রতি বেশি নজর থাকে আপনার। যদি আপনি দেখেন net worth কমে আসছে তখন অবাঞ্ছিত খরচ কমিয়ে আপনি সঞ্চয়ে মনোযোগী হন। ফলে আপনার সঞ্চয়ের প্রতি একটি ভালো অভ্যাস তৈরি হয়।
- আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে : নিজের net worth দেখে আপনি বাড়ি কেনা, বিনিয়োগ বা অবসরের মতো আর্থিক সিদ্ধান্তগুলি ঠিকমতো নিতে পারেন। আপনার net worth বলে দেয় বর্তমানে কতটা সামর্থ্য রয়েছে আপনার এবং পরবর্তী কোন পদক্ষেপের জন্য আপনি প্রস্তুত।
এবার প্রশ্ন হল কীভাবে জানবেন আপনার net worth কত?
প্রথমেই আপনার সমস্ত অ্যাসেট বা সম্পত্তির একটি তালিকা তৈরি করুন। অর্থাৎ আপনি যা কিনেছেন বা আপনার নামে যা কিছু আছে সেগুলোই আপনার অ্যাসেট। যেমন:
- Investment (শেয়ার, বন্ড, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, PPF ইত্যাদি)
- সেভিংস অ্যাকাউন্ট
- FD
- Retirement account
- Real estate
- Personal property যেমন, সোনা
মনে রাখতে হবে প্রতিটির বর্তমান মার্কেট ভ্যালুর হিসাব রাখতে হবে।
এরপর আপনার যা কিছু দায় বা liability আছে সেগুলি তালিকাবদ্ধ করতে হবে। যেমন,
- যেকোনো ধরনের লোন
- ক্রেডিট কার্ড
- পরিশোধ না করা কোনো ঋণ
এবার সব অ্যাসেট ও লায়াবিলিটির তালিকা তৈরি হলে net worth বের করার নিয়ম খুব সহজ
Net worth= Total assets – Total liabilities
অর্থাৎ যদি যদি আপনার মোট অ্যাসেট থাকে ২০ লাখ এবং মোট দায় বা লায়াবিলিটি থাকে ৫ লাখের তাহলে আপনার net worth দাঁড়াবে ১৫ লাখ। যদি অ্যাসেটের তুলনায় লায়াবিলিটি বেশি হয়ে যায় তাহলে net worth-এর ভ্যালু negative হবে। আপনি যেকোনো finance app, online net worth calculator বা spreadsheet ব্যবহার করে net worth বের করতে পারবেন। এই মাধ্যমগুলোতে যদি আপনি নিয়মিত প্রতি মাসে বা তিন মাসে একবার অ্যাসেট ও লায়াবিলিটির আপডেট যোগ করতে থাকেন তাহলে আপনার আর্থিক পরিস্থিতি আপনার হাতের নাগালে থাকবে।
কীভাবে net worth বাড়াবেন?
- লায়াবিলিটি যত বেশি হবে net worth তত কমে আসবে। তাই আপনি যদি নিজের লায়াবিলিটি কমাতে পারেন তাহলে net worth বাড়বে। তার জন্য বেশি ইন্টারেস্ট দিতে হয় এমন ঋণ থেকে মুক্ত হোন।
- যত বেশি বিনিয়োগ ও সঞ্চয় করবেন তত বেশি হবে আপনার net worth। সেই জন্য এমারজেন্সি ফান্ড তৈরি রাখুন, অবসরের জন্য সঞ্চয় করুন এবং এমন অ্যাসেটে বিনিয়োগ করুন যার মূল্য সময়ে সময়ে বাড়ে।
- কিছু সম্পদ এমন আছে যেগুলির মূল্য ধীরে ধীরে কমে আসে অর্থাৎ depreciate হয়, যেমন গাড়ি। ফলে যখন কোনো সম্পদে বিনিয়োগ করবেন সবসময় তার দীর্ঘমেয়াদি মূল্য বিচার করবেন।
- এবং অবশ্যই নিজের আয় বৃদ্ধির চেষ্টা করুন। অ্যাক্টিভ ইনকামের পাশাপাশি প্যাসিভ ইনকামের চেষ্টা করুন যাতে সেই অর্থ দিয়ে বিনিয়োগ বা সঞ্চয় বাড়ানো সম্ভব হয়।
সুতরাং আলোচনা শেষে আমরা বুঝলাম যে শুধুমাত্র বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি বোঝা যায় তা নয়, আর্থিক লক্ষ্য তৈরি করা, এবং সঞ্চয় ও বিনিয়োগের অভ্যাস তৈরি করতেও net worth জানা প্রয়োজন। নিয়মিত net worth track করলে বা প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য আনতে পারলে আপনার অর্থনৈতিক জীবন সচ্ছল হবে।





