Article By – সুনন্দা সেন

ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনায় আবারও গতি এসেছে, কারণ দুই দেশই বাজার-অ্যাক্সেস এবং শুল্ক কাঠামো নিয়ে নতুন করে সমঝোতার সম্ভাবনা দেখছে। সরকার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বাস্তবসম্মত বাজার-অ্যাক্সেস অফার দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে এবং এর মাধ্যমে কৃষি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ভোক্তা-দ্রব্য এবং প্রযুক্তি সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি সেক্টরে রফতানি-আমদানি সহজ হতে পারে। তবে এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৃষিপণ্যের শুল্ক এবং খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতিমালা, কারণ এ ক্ষেত্রগুলোতে দুই দেশের স্বার্থ প্রায়শই ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র চায় আরও উন্মুক্ত বাজার, যাতে তাদের কৃষিপণ্য ভারতীয় বাজারে আরও সহজে প্রবেশ করতে পারে।
অন্যদিকে ভারত জোর দিচ্ছে দেশীয় কৃষক, উৎপাদনকারী ও MSME খাতকে সুরক্ষা দেওয়ার উপর, যাতে অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা তাদের ক্ষতিগ্রস্ত না করে। সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হচ্ছে শুল্ক কমানো নিয়ে, কারণ আমদানি শুল্ক হ্রাস পেলে ভোক্তাদের জন্য পণ্যের দাম কমতে পারে। কিন্তু দেশীয় উৎপাদকরা চাপের মুখে পড়তে পারেন। এই কারণে ভারত সতর্কতার সাথে ভারসাম্য বজায় রাখছে, একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর সুযোগ, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারের নিরাপত্তা। আলোচনায় আরও উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, খাদ্য গুণমান পরীক্ষা, সার্টিফিকেশন এবং রফতানি-ডকুমেন্টেশনের মতো বিষয়, যেগুলো সমাধান না হলে চুক্তি সম্পূর্ণ হওয়া কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে ইতিবাচক দিক হলো, বাণিজ্য আলোচনাকে দুই দেশই কৌশলগত সম্পর্কের অংশ হিসেবে দেখছে। ভারত বলছে, এই সমঝোতা হলে রফতানি-ভিত্তিক ব্যবসা ও প্রযুক্তি-নির্ভর শিল্পগুলোতে বড় সুযোগ তৈরি হবে এবং আমেরিকান বিনিয়োগও বাড়তে পারে। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে এই চুক্তি হলে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম বাজারে তাদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে। যদিও চূড়ান্ত চুক্তি কবে হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আলোচনার গতি ও লক্ষ্য দেখে মনে হচ্ছে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে। এই মুহূর্তে ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনা এমন এক অবস্থায় রয়েছে যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তই দ্বিমুখী প্রভাব ফেলতে পারে।




