Article By – সুনন্দা সেন

ভারত এবং কানাডার মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত CEPA (Comprehensive Economic Partnership Agreement) বা ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি চলতি বছরের নভেম্বর মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রক। কানাডা সফরে পিয়ূষ গোয়েল (Piyush Goyal) বলেন, দুই দেশই দ্রুতগতিতে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে একটি বড় বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আশাবাদী। আর এই CEPA চুক্তিকে বিশেষ করে গুরুত্ব দেওয়ার কারণ, দুই দেশের আমদানি-রপ্তানি শুল্কে হ্রাস, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন সহযোগিতা তৈরির সম্ভাবনা।
বিশেষ করে ভারতের টেক্সটাইল, মেডিসিন, কৃষিপণ্য, IT পরিষেবা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের জন্য কানাডার বাজারে এক্সেস বাড়তে পারে। অন্যদিকে ভারতীয় বাজারে কৃষি, ফুয়েল এডুকেশন ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ক্ষেত্রে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াতে চাইছে কানাডা। বর্তমানে কানাডা ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশই আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই বাণিজ্যকে কয়েক গুণ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে। এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্রের জন্য নতুন রপ্তানি সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। যদি CEPA চুক্তি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি হবে এবং বিদেশী বিনিয়োগ বাড়তে পারে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্ণি (Mark Carney) এই চুক্তিকে ‘গেম চেঞ্জার’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, বর্তমান বিশ্বে সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, সেখানে ভারত ও কানাডার মধ্যে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক দুই দেশের জন্যেই কৌশলগত ভাবে লাভজনক হবে। বিশেষ করে ক্রিটিকাল মিনারেল বা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের ক্ষেত্রে ভারত কানাডার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী। ভারতের শিল্পমহল এই খবরে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের মতে, উত্তর আমেরিকার বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে কানাডার সঙ্গে এই ধরনের চুক্তি ভারতীয় কোম্পানিগুলির জন্য দীর্ঘমেয়াদে বড় সুবিধা এনে দিতে পারে।




