Article By – সুনন্দা সেন

মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩.৭৫ থেকে ৪ শতাংশে করেছে। ২০২৬ সালে এটি ফেডের প্রথম সুদ বৃদ্ধি। এই সিদ্ধান্তের পর ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক বা RBI-ও কি রেপো রেট বাড়াবে, তা নিয়ে বাজারে আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে ভারতের রেপো রেট ৫.২৫%- এ রয়েছে। তবে ফেডের সিদ্ধান্তের পর RBI-কে সরাসরি একই পথে হাঁটতেই হবে, এমন নয়। RBI মূলত ভারতের নিজস্ব মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, টাকার দামের স্থিতিশীলতা এবং জ্বালানির দামের মতো বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। তবে মার্কিন সুদ বাড়লে ভারতীয় টাকার উপর চাপ এবং বিদেশি মূলধন প্রবাহের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে।
বর্তমানে বাজারে কিছু অর্থনীতিবিদ অক্টোবরের RBI MPC (Monetary Policy Committee) বৈঠকে ২৫ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন। আবার অন্য বিশ্লেষকদের মতে, RBI অক্টোবরেও অপেক্ষা করতে পারে এবং প্রয়োজনে ডিসেম্বর পর্যন্ত সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে পারে। অর্থাৎ, এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না যে RBI ফেডের পরেই সুদ বাড়াবে। যদি RBI রেপো রেট বাড়ায়, তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ফ্লোটিং-রেট হোম লোনে। বিশেষ করে যেসব ঋণের সুদের হার বাহ্যিক বেঞ্চমার্ক বা রেপো রেটের সঙ্গে যুক্ত, সেগুলির সুদ বাড়তে পারে।
যার ফলে একই ঋণের ক্ষেত্রে EMI বাড়তে পারে অথবা ঋণের মেয়াদ দীর্ঘ হতে পারে। তবে কতটা প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে ঋণের বাকি টাকা, সুদের হার, মেয়াদ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের রিসেট নিয়মের উপর। অন্যদিকে, FD বা ফিক্সড ডিপোজিটে থাকা গ্রাহকদের জন্য সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক হতে পারে। RBI সুদ বাড়ালে ব্যাংকগুলিও ধীরে ধীরে আমানতের সুদের হার বাড়াতে পারে, বিশেষ করে নতুন FD বা স্বল্প ও মাঝারি মেয়াদের আমানতে। তবে RBI রেপো রেট বাড়ালেই প্রত্যেক ব্যাংক একই হারে FD-এর সুদ বাড়াবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, US ফেড (Fed)-এর সিদ্ধান্ত RBI-কে প্রভাবিত করতে পারে, কিন্তু RBI-এর সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে না। ভারতের মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিই শেষ পর্যন্ত বড় ভূমিকা নেবে। তাই আগামী RBI MPC বৈঠকের আগে বাজারের নজর থাকবে মূল্যস্ফীতি, অপরিশোধিত তেলের দাম এবং টাকার দামের গতিবিধির দিকে।




