Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের অন্যতম বড় ব্যবসায়িক সংস্থা আদানি গ্রুপকে এবার পারমাণবিক শক্তি খাতে স্বাগত জানান হয়েছে। আধিকারিক রূপে আদানি পাওয়ার (Adani Power Limited) এবং একটি নতুন সংস্থা Adani Atomic Energy Limited (AAEL) কাজ করেছে। যা এখন থেকে সরকারের সাথে এবং এই খাতে কোম্পানিটির নিজস্ব উদ্যোগের নেতৃত্ব দেবে। এছাড়া এই নতুন ইউনিটটি পুরোদমে পারমাণবিক ও অ্যাটমিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ও বণ্টন করবে। এটি আদানি পাওয়ারের ১০০% মালিকানাধীন সাবসিডিয়ারি হিসেবে কাজ করবে এবং কোম্পানির শক্তি পোর্টফোলিওকে আরও বিস্তৃত করবে।
এই বড় উদ্যোগটি ঘটেছে এমন এক সময় যখন ভারত পারমাণবিক শক্তি খাতকে খোলা হচ্ছে বেসরকারি কোম্পানিগুলির জন্য। জনপ্রিয়তার দিক থেকে SHANTI বিল (Sustainable Harnessing and Advancement of Nuclear Energy for Transforming India Act) 2025—কেন্দ্রীয় সংসদে পাস হয়েছে। যা দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি একচেটিয়া ছিল, তবে এখন এই খাতে বেসরকারি অংশগ্রহণকে আইনগতভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একমাত্র বা একক শক্তি খাতে বিনিয়োগ নয়, বরং ভারতের বিদ্যুৎ ও পরিবেশগত লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি স্ট্র্যাটেজিক ধাপ।
দেশের লক্ষ্য ২০৪৭ সালের মধ্যে পারমাণবিক শক্তি ক্ষমতা ১০০ গিগাওয়াট পর্যন্ত বৃদ্ধি করা এবং বেসরকারি অংশীদারিত্ব তা দ্রুত বাস্তবায়নে সাহায্য করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক শক্তি খাতে বেসরকারি অংশগ্রহণ শক্তি নিরাপত্তা বাড়াবে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কমাবে এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়তা করবে — যা পরিবেশবান্ধব (Eco friendly) ও টেকসই শক্তি ব্যবস্থার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আদানি গ্রুপ ইতিমধ্যেই শক্তি খাতে বড় বিনিয়োগ করেছে — সে সেটা সোলার পাওয়ার বা অন্যান্য পুনর্নবীকরণযোগ্য উৎস হোক অথবা থার্মাল পাওয়ার।
জানা যাচ্ছে যে বর্তমানে পারমাণবিক শক্তিতে অংশগ্রহণ করলে তারা ভারতীয় শক্তি খাত বা এনার্জি সেক্টর আরও মজবুত অবস্থান নিতে পারবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এটি শুধু একটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নয় — দেশের গ্রাহক ও শিল্প পর্যায়েও শক্তি চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারের পারমাণবিক নীতিতে পরিবর্তন এবং বেসরকারি অংশগ্রহণের সুযোগের ফলে ভবিষ্যতে আরও এধরনের উদ্যোগ দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




