Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের পারিবারিক মালিকানাধীন সংস্থাগুলির প্রায় ৫০% এখন বছরে ১ বিলিয়ন থেকে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের স্তরে পৌঁছেছে। যা প্রমাণ করছে যে ঐতিহ্যনির্ভর এই ব্যবসাগুলি এখন দ্রুত রূপান্তরিত হয়ে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও বৈশ্বিক মানের কর্পোরেটে পরিণত হচ্ছে। এই বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর ব্যবহার। সাপ্লাই চেন ব্যবস্থাপনা, চাহিদা পূর্বাভাস, আর্থিক পরিকল্পনা, গ্রাহক বিশ্লেষণ এবং স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় AI ব্যবহারের ফলে খরচ কমছে। সাথে লাভজনকতা বাড়ছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ হচ্ছে আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে।
এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব। তরুণ প্রজন্ম ঐতিহ্যগত শক্তির সঙ্গে যুক্ত করছে আধুনিক কর্পোরেট সংস্কৃতি, ডিজিটাল রূপান্তর, বৈশ্বিক সম্প্রসারণ ও পরিবেশ-সামাজিক-শাসন (ESG) মানদণ্ড। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ ও দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধি সহজ হচ্ছে। পুঁজির প্রাপ্যতাও বেড়েছে। অনেক পারিবারিক সংস্থা এখন প্রাইভেট ইকুইটি, কৌশলগত বিনিয়োগকারী ও শেয়ারবাজারের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করছে, পাশাপাশি কর্পোরেট শাসনব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে।
বিশেষ করে উৎপাদন, পরিকাঠামো, ওষুধ শিল্প বা ফার্মা ইন্ডাস্ট্রি, ভোক্তা পণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে এই সংস্থাগুলির প্রবৃদ্ধি চোখে পড়ার মতো। সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ডিজিটাল অবকাঠামো ও ক্যাপেক্স-ভিত্তিক নীতির ফলে এই ব্যবসাগুলির ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল। সব মিলিয়ে, AI-নির্ভর এই পারিবারিক সংস্থাগুলির উত্থান ভারতের অর্থনীতিতে একটি গভীর কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যেখানে ঐতিহ্য ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনে তৈরি হচ্ছে বিশ্বমানের কর্পোরেট চ্যাম্পিয়ন।




