Article By – সুনন্দা সেন

ভারতে সোনার প্রতি মানুষের ভালোবাসা শুধু জুয়েলারি বা বিনিয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, একটি বহু পরিবারের আবেগ, নিরাপত্তা ও সামাজিক মার্যাদার প্রতীক। কিন্তু এখন সেই সোনার চাহিদা নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার চাইছে ভারতীয়রা কিছুটা হলেও সোনা কেনা কমাক। কারণ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সোনা আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের এই অভ্যাস অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরী করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয়দের ঘরে ও মন্দিরে মজুত সোনার মোট মূল্য প্রায় ৫.২ ট্রিলিয়ন ডলার। এই বিপুল পরিমাণ সোনা দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এদিকে সরকার মনে করছে, মানুষ যদি অতিরিক্ত সোনা কেনার বদলে ব্যাংক, শেয়ার বাজার বা সরাসরি প্রকল্পে বিনিয়োগ করে, তাহলে অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হতে পারে। আর সাম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম (Gold Price) রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
তবুও ভারতে বিয়ে, উৎসব ও ভবিষ্যতের, সুরক্ষার কথা ভেবে মানুষ এখনও সোনা কিনছেন। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও গ্রামীণ পরিবারগুলির কাছে সোনা একটি বিশ্বাসযোগ্য সম্পদ (trusted Resources)। সাথে অনেকের ধারণা, বাজার পড়ে যেতে পারে বা বাজার অবস্থা হ্রাস পেতে পারে আর মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে, কিন্তু সোনার মূল্য দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকে। এই পরিস্থিতিতে সরকার গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম, ডিজিটাল গোল্ড এবং সোভেরাইন গোল্ড বন্ডের মতো বিকল্প তুলে ধরছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য একটাই—ঘরে পড়ে থাকা সোনাকে আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনা। তবে বাস্তবে এই পরিকল্পনাগুলি খুব বেশি জনপ্রিয় হয়নি। কারণ অধিকাংশ মানুষ বাস্তব সোনা হাতে রাখতে বেশি স্বচ্ছন্দ। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, ভারতের সোনা-নির্ভর মানসিকতা বদলানো সহজ হবে না। কারণ এটি শুধুমাত্র বিনিয়োগ নয়, বরং সংস্কৃতি, পারিবারিক ঐতিহ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার অংশ। তাই সরকারের আহ্বান থাকলেও, “গোল্ড অবসেশন” থেকে ভারতীয়দের দূরে সরানো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।




