Article By – সুনন্দা সেন

ভারতে ডিজিটাল পেমেন্টের দুনিয়ায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া বা RBI। মোবাইল ওয়ালেট পরিষেবার জন্য নতুন কড়া গাইডলাইন আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে আগামী দিনে Mobikwik, এয়ারটেল পেমেন্ট ব্যাংক, অ্যামাজন পে, ফোনপের মতো ওয়ালেট ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আসতে পারে। RBI-এর মতে, মোবাইল ওয়ালেট এখন শুধু ক্ষুদ্র পেমেন্টের মাধ্যম নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের টাকা লেনদেন, সন্দেহজনক ট্রান্সফার এবং আর্থিক জালিয়াতি (Financial Fraud)-এর ক্ষেত্রেও ব্যবহার হচ্ছে।
এই সমস্ত কারণেই নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করতে চাইছে RBI, আর নতুন প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, Full-KYC (সম্পূর্ণ KYC) করা ওয়ালেটে সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত রাখা যাবে। এছাড়া ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মাধ্যমে (Person-to-Person) বা P2P ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে মাসিক সীমা রাখা হতে পারে ২৫,০০০ টাকা। ক্যাশ লোডের ক্ষেত্রেও মাসে ১০,০০০ টাকার সীমা আনার কথা ভাবা হচ্ছে। এই সীদ্ধান্ত গ্রহণের কারণ হিসাবে সবার প্রথমে RBI বলেছে, অনেক ওয়ালেট অ্যাকাউন্টে এমন লেনদেন ধরা পড়েছে যেখানে ব্যবহারকারীরা আয়ের সাথে ট্রান্সফারের পরিমাণের মিল নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, UPI জনপ্রিয় হওয়ার পর অনেক মোবাইল ওয়ালেট প্রায় “ছোট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট”-এর মতো ব্যবহার হতে শুরু করেছে। কিন্তু ওয়ালেট সংস্থাগুলোর ওপর ব্যাংকের মতো কড়া নিয়ন্ত্রণ নেই। তাই RBI এখন স্পষ্ট সীমারেখা তৈরি করতে চাইছে—কোনটা ব্যাংকিং, কোনটা ওয়ালেট পরিষেবা। এর প্রভাব সাধারণ গ্রাহকদের ওপর কী হবে? দৈনন্দিন ছোটখাটো পেমেন্টে খুব বেশি পরিবর্তন নাও হতে পারে।
UPI ব্যবহারকারীদেরও বড় সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে ওয়ালেট ব্যবহার করতে গেলে KYC আরও কঠোর হতে পারে, বড় অঙ্কের টাকা ট্রান্সফারে বাধা আসতে পারে, আর ওয়ালেটকে “সেভিংস অ্যাকাউন্ট”-এর মতো ব্যবহার করা কঠিন হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, ফিনটেক শিল্পে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ নতুন নিয়ম মানতে গেলে কোম্পানিগুলোর খরচ বাড়বে। তখন বিশেষ করে ছোট ওয়ালেট সংস্থাগুলোর পক্ষে ব্যবসা চালানো কঠিন হতে পারে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, অতিরিক্ত কড়াকড়ি ডিজিটাল পেমেন্ট সেক্টরে উদ্ভাবনের গতি কমিয়ে দিতে পারে।




