Article By – সুনন্দা সেন

পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের অর্থনীতিতে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়ায় ভারতের আমদানি খরচ বেড়ে গেছে, যা বাণিজ্য ঘাটতি ও আর্থিক ভারসাম্যের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। রেটিং সংস্থা মুডিস জানিয়েছে, এই পরিস্থিতির কারণে ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের GDP বৃদ্ধির হার ৬.৮% থেকে কমে প্রায় ৬% হতে পারে। মূলত জ্বালানির দাম বাড়া এবং চাহিদা কমে যাওয়াই এর প্রধান কারণ।
এদিকে, ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকও সতর্কবার্তা দিয়েছে। আরব অঞ্চলের এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। RBI গভর্নর বলেছেন, এই পরিস্থিতি শুধু পণ্যের দাম নয়, ভবিষ্যতে মজুরি ও পরিষেবার খরচও বাড়াতে পারে, যা অর্থনীতির উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। জ্বালানির এই অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের জ্বালানি বাজারেও। ২২ এপ্রিল পর্যন্ত দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা ও চেন্নাইসহ বিভিন্ন শহরে ডিজেলের দাম ওঠানামা করছে, যা পরিবহন খরচ বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই তিনটি বড় কৌশল গ্রহণের পথে। এর মধ্যে রয়েছে; জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা, ভর্তুকি ও কর ছাড় দিয়ে খরচ নিয়ন্ত্রণ করা এবং ব্যবসা ও শ্রমিকদের জন্য ঋণ সহায়তা বৃদ্ধি করা। তবে সব নেতিবাচক খবরের মাঝেও কিছুটা স্বস্তির খবর রয়েছে। জাতিসংঘের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপে সত্ত্বেও ২০২৬ সালে ভারতের অর্থনীতি প্রায় ৬.৪% হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। যা ভারতকে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বড় অর্থনীতির তালিকায় রাখবে।




