Article By – সুনন্দা সেন

ভারত সরকার সংসদে জানিয়েছে যে গত পাঁচ আর্থিক বছরে দেশে ২ লাখ ৪ হাজারেরও বেশি প্রাইভেট কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে, যা কর্পোরেট দুনিয়ায় এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের (MCA) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরের মধ্যে এই বিপুল সংখ্যক কোম্পানি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করেছে। তথ্যে দেখা গেছে, বিশেষ করে ২০২২-২৩ সালে কোম্পানি বন্ধের হার সর্বাধিক বৃদ্ধি পায়, সেই বছরেই ৮৩,০০০-এর বেশি কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায়। এর আগের বছর কোভিডের কারণে ৬৪,০৫৪ কোম্পানি বন্ধ হয়।
MCA দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মহামারির পরে অর্থনৈতিক চাপ, কার্যক্রম স্থগিত থাকা এবং নিয়ম-নীতি অনুসরণের ব্যয়—সব মিলিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পারেনি। আর বন্ধ হওয়ার মূল কারণগুলি হয়ে উঠেছে,
- বহু কোম্পানি আমালগামেশন বা মর্জার-এর কারণে বন্ধ হয়েছে; ছোট কোম্পানিগুলি বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত হওয়ায় পুরনো রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়েছে।
- কিছু কোম্পানি কনভার্সন প্রক্রিয়ায় তাদের কাঠামো বদলেছে; ফলে আগের নিবন্ধিত সত্তা বিলুপ্ত হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছায় ভেঙে দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে ছোট ও নিষ্ক্রিয় ফার্ম যেগুলি নিয়মিত কমপ্লায়েন্স চালিয়ে যেতে পারেনি।
- বিপুল সংখ্যক কোম্পানি সরকার নিজে থেকেই “স্ট্রাইক অফ” করেছে—কোম্পানি অ্যাক্টের সেকশন ২৪৮ অনুযায়ী, যারা দীর্ঘদিন ধরে কোনো ব্যবসা চালায়নি বা বার্ষিক রিটার্ন জমা দেয়নি।
এছাড়া, ২.০৪ লাখ কোম্পানি বন্ধের পাশাপাশি সরকার আরও ১.৮৫ লাখ অকার্যকর ও দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে দিয়েছে দিয়েছে, যারা কার্যত ব্যবসা চালাচ্ছিল না।




