Article By – সুনন্দা সেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক আরোপের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের অর্ধেকেরও বেশি রপ্তানি এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ট্রাম্প ভারতকে রাশিয়ার সাথে যোগসাজশ এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখার অভিযোগ এনে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এই অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ফলে ভারতীয় পণ্যের উপর কার্যকর গড় শুল্ক ৫০%- এ উন্নীত হয়েছে। যা ৩১ জুলাই জারি করা হয়েছিল ২৫% শুল্কের থেকে দ্বিগুণ। ভারত এখন বিশ্বের সর্বোচ্চ শুল্কের মুখোমুখি, কিছুটা ব্রিকস (BRICS) অংশীদার ব্রাজিলের সমকক্ষ। ওই দেশটির উপরেও একই শর্ত আরোপ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, সেমিকন্ডাক্টর, মেডিসিন এবং অটোমোবাইলের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলিকে ছাড় দিয়েছে। তবুও শুল্ক বৃদ্ধির ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের ৯১ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির প্রায় ৬০%- এর উপর প্রভাব পড়বে। অর্থাৎ প্রায় ৬৩.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বাণিজ্য ঝুঁকির সম্মুখীন হবে। আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সেক্টরগুলির মধ্যে রয়েছে টেক্সটাইল। যেখানে আগে থেকেই ভারত সরাসরি বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম এবং ফিলিপাইনের সাথে প্রতিযোগিতা করে চলত। এখন এই খাতের বা ইন্ডাস্ট্রির উপর ১৯%-২০% কম শুল্ক বাকি দেশগুলির জন্য নির্ধারণ করায় প্রতিযোগীতা আরও বৃদ্ধি পাবে। এমনকি উচ্চ শুল্ক পোশাক, গৃহসজ্জার পণ্য এবং অন্যান্য শ্রম-নিবিড় পণ্যের ক্ষেত্রে ভারতের প্রতিযোগীতামূলকতা হ্রাস পেতে পারে।
যদিও বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন যে ভারত ১০% বাণিজ্য এরপরেও ধরে রাখতে সমর্থ হবে। কারণ মার্কিন মার্কেটের বিরাট অংশ জুড়ে সিনথেটিক ডায়মন্ড এবং ভারতীয় জিরা (Cumin)- এর রাজস্ব রয়েছে। যার পরিমাণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির ৬০% – এরও বেশি। তবে অবশ্যই ভারতীয় বাকি রপ্তানিগুলি তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে চলেছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনা কেবল ভারতের পণ্য রপ্তানির জন্য সরাসরি থ্রেট নয়, এটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের উপকরেও বিস্তৃত প্রস্তাব ফেলতে পারে। এই সম্পর্কেও সাবধান করেছেন বিশেষজ্ঞ মোহন। বিশেষ করে ভারতের ভূ-রাজনৈতিক এবং বানিজ্য জোটে প্রভাব বিস্তার করার আশঙ্কা রয়েছে।




