Article By – সুনন্দা সেন

ভারতে ডেটা-সেন্টার শিল্পে এখন সত্যিই এক প্রবল উত্থান দেখা যাচ্ছে। ডিজিটাল পরিষেবা, ক্লাউড, অনলাইন স্ট্রিমিং থেকে শুরু করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার; সব মিলিয়ে দেশের ডেটা-স্টোরেজ ও প্রসেসিং-এর চাহিদা দ্রুত বেড়ে উঠছে। আর এই প্রবল চাহিদাই ভারতের ডেটা-সেন্টার ইকোসিস্টেমকে নজিরবিহীন গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। রিপোর্ট বলছে, ২০২০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ এসেছে এই খাতে। শুধু তাই নয়, ২০৩০ সালের মধ্যে আরও ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারতের ডাটা-সেন্টারের ক্ষমতা গত পাঁচ বছরে বহু গুণ বেড়েছে, আর আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ক্ষমতা দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকেরা। আর এই চাহিদার মূল কারণ হলো স্মার্টফোনের বিস্তার, ক্লাউড পরিষেবা ব্যবহার, ডিজিটাল পেমেন্ট, ই-কমার্স, OTT প্ল্যাটফর্ম এবং এখন AI ও মেশিন-লার্নিং-এর ব্যাপক প্রবেশ। পাশাপাশি ডেটা-লোকালাইজেশন নীতির কারণে বড় সংস্থাগুলো নিজেদের সার্ভার-ডাটা দেশের মধ্যেই রাখতে আগ্রহী হচ্ছে। ফলে মুম্বই, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদের পাশাপাশি নতুন শহরগুলিতেও বড় ডাটা-সেন্টার প্রকল্প শুরু হচ্ছে।
এদিকে বিশ্বজুড়ে গুগল ক্লাউড, AWS, মাইক্রোসফটের মতো বড় বড় হাইপারস্কেল কোম্পানির পাশাপাশি ভারতীয় বড় গ্রুপও এই বিনিয়োগের দৌড়ে নেমেছে। কিছু ডাটা-সেন্টার আবার বিশেষভাবে তৈরি হচ্ছে AI-ওয়ার্কলোড ও হাই-কম্পিউটিং প্রয়োজনের জন্য। তবে উন্নতির পাশাপাশি আছে কিছু বড় চ্যালেঞ্জও। ডাটা-সেন্টারের জন্য প্রচুর বিদ্যুৎ, কুলিং-এর জন্য জল এবং বিশাল পরিমাণ জমির প্রয়োজন হয়। অনেক শহরে এগুলোর সরবরাহ সীমিত, ফলে অবকাঠামো নিয়ে চাপ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকসই শক্তি, গ্রিন-কুলিং প্রযুক্তি এবং স্মার্ট পরিকল্পনা ছাড়া এই বুম দীর্ঘমেয়াদে টিকে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।




