Article By – সুনন্দা সেন

ভারত পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ইতিমধ্যেই গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক দফায় বেড়েছে। কিন্তু তবুও রাষ্ট্রায়ত্ত ও তেল বিপণন সংস্থাগুলি বা OMCs এখনও বড় অঙ্কের ক্ষতির মুখে রয়েছে। সেই কারণে রেটিং এজেন্সি ICRA (Investment Information and Credit Rating Agency) ও ক্রিসিলের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, OMC-গুলিকে ব্রেক-ইভেন অবস্থায় আনতে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে আরও প্রতি লিটারে প্রায় ৫ টাকা বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে বিশ্লেষকদের হিসাব অণুযায়ী, সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পরেও OMC-গুলি পেট্রোলে প্রায় ৫৫ টাকা এবং ডিজেলে প্রায় ৪.৫ টাকা লোকসান করছে।
তিনটি প্রধান রাষ্ট্রয়ত্ত সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াল কর্পোরেশন এবং হিন্দুস্থান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের একত্রিত ভাবে দৈনিক আন্ডার রিকভারি প্রায় ৬১০ কোটি টাকা বলে অনুমান করা হচ্ছে। আর এমন পরিস্থিতির মূল কারণ হিসাবে ধরা হচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের উচ্চ দাম। মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে চার দফায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ৭.৫ টাকা বাড়ানো হলেও ক্ষতি পরোপুরি পুষিয়ে ওঠা যায়নি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি আরও প্রতি লিটারে দাম প্রায় ৫ টাকা বাড়ানো হয়, তাহলে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং খাদ্য ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে। ক্রিসিলের হিসাব অনুযায়ী, জ্বালানির দাম বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি মুদ্রাস্ফীতিতে পড়তে পারে। বিনিয়োগকারীদের জন্যেও এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ –
- OMC শেয়ারগুলির লাভজনকতা উন্নত হতে পারে।
- পরিবহন, FMCG এবং লজিস্টিক্স খাতে খরচ বাড়তে পারে।
- RBI-এর মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কাজ আরও কঠিন হতে পারে।
- উচ্চ তেলের দাম ভারতের আমদানি বিল ও চলতি হিসাব ঘাটতির ওপর চাপ বাড়াতে পারে।




