Article By – সুনন্দা সেন

ডিসেম্বর মাসে ভারতের বেসরকারি খাতের বৃদ্ধি কিছুটা শ্লথ হয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, প্রাইভেট সেক্টরের কার্যকলাপ ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমেছে, যদিও সামগ্রিকভাবে খাতটি এখনও সম্প্রসারণের মধ্যেই রয়েছে। এই প্রবণতা ২০২৬ সালের আগে অর্থনৈতিক গতি কিছুটা নরম হতে পারে, এমন ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন ও পরিষেবা; উভয় ক্ষেত্রেই বৃদ্ধির হার আগের মাসগুলোর তুলনায় ধীর হয়েছে। নতুন অর্ডারের গতি কমে যাওয়া, বৈশ্বিক চাহিদার দুর্বলতা এবং উচ্চ সুদের হারের প্রভাব এর অন্যতম কারণ। বিশেষ করে রপ্তানি নির্ভর শিল্পগুলিতে অর্ডার প্রবাহ কম থাকায় ব্যবসায়িক মনোভাব কিছুটা সতর্ক হয়ে উঠেছে।
পরিষেবা খাতে এখনও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীলতা থাকলেও, ভোক্তা ব্যয়ের গতি প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তারা খরচের ক্ষেত্রে সংযত হচ্ছেন, যার প্রভাব পড়ছে হোটেল, পরিবহণ ও ভোক্তা পরিষেবা খাতে। অন্যদিকে, উৎপাদন খাতে ইনপুট খরচ ও ঋণের ব্যয় ব্যবসার উপর চাপ তৈরি করছে। অনেক সংস্থা নতুন নিয়োগ ও বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রেখেছে। ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতিও কিছুটা মন্থর হয়েছে বলে ইঙ্গিত মিলছে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই মন্থরতা এখনই বড় কোনও সংকেত নয়।
অবশ্য ভারতের মৌলিক অর্থনৈতিক ভিত্তি এখনও শক্তিশালী। সরকারি পরিকাঠামো ব্যয়, ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসার এবং দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেশের অর্থনীতিকে সমর্থন দিচ্ছে। পাশাপাশি, উৎসবের মরসুমে গ্রামীণ চাহিদা কিছুটা উন্নত হলে আগামী মাসগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। আগামী দিনে বাজার ও ব্যবসার নজর থাকবে মার্কিন ফেডের সুদের নীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার সিদ্ধান্তের দিকে। এছাড়া বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে সুদের হার কমার ইঙ্গিত মিললে কর্পোরেট বিনিয়োগ ও ভোক্তা ব্যয় ফের গতি পেতে পারে। অর্থাৎ ডিসেম্বরের তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভারতের বেসরকারি খাত এখনও বাড়ছে, তবে ২০২৬ সালের আগে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শিথিল হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।




