Article By – সুনন্দা সেন

দেশের বাজারে চিনির দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় মজুতদারি ও অতিরিক্ত দামের প্রবণতা ঠেকাতে আমদানি নীতিতে বড় পরিবর্তন আনলো কেন্দ্র। নতুন নিয়মে, শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা কাঁচা চিনি বা রো সুগার দেশে ঢোকার পর সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে পরিশোধিত চিনিতে রূপান্তর করতে হবে এবং সেই পরিশোধিত চিনি একই সময়সীমার মধ্যে দেশের বাজারে বিক্রি করতে হবে। আর এই পরিবর্তনটি এসেছে এমন সময়ে, যখন গত কয়েক সপ্তাহে দেশে চিনির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সর্বভারতীয় গড় খুচরো চিনির দাম ২০ জুলাই মাসের কেজি প্রতি ৪৮.১৮ টাকা থেকে বেড়ে ২৪ আগস্টে ৬৩.০৫ টাকা প্রতি কেজিতে পৌঁছেছে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে দাম প্রায় ৩১% বেড়েছে। সাথে এই পরিস্থিতিতে সরকার ইতিমধ্যেই ১০ লক্ষ টন কাঁচা চিনি বা রো সুগার শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি দিয়েছে। সাথে প্রায় এক দশক পর এই প্রথম এত বড় আকারে শুল্কমুক্ত চিনি আমদানির দিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যার লক্ষ হল দেশীয় বাজারে সরবরাহ বাড়ানো এবং উৎসবের মরসুমের আগে দামে নিয়ন্ত্রণ আনা। যেখানে আগের নিয়মে আমদানি করা রো সুগারকে পরিশোধিত করে ৩১ অক্টোবর, ২০২৬-এর মধ্যে দেশের বাজারে বিক্রি করতে হতো।
নতুন নিয়মে সেই নির্দিষ্ট তারিখ তুলে দিয়ে প্রতিটি চালানের ক্ষেত্রে বিল অফ এন্ট্রি জমা দেওয়ার তারিখ থেকে আলাদা করে দুই মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া শুধু আমদানির নিয়ম নয়, মজুতদারির (Stockpiling) বিরুদ্ধেও একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। যেসব পাইকারি ভোক্তা বা বাল্ক কনজিউমার মাসে ১০ টনের বেসি চিনি কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে ১৫ দিনের বেশি ব্যবহারের সমপরিমাণ চিনি মজুত রাখা যাবে না। আর নতুন নিয়ম ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
সরকারের পাশাপাশি সুগার ইন্ডাস্ট্রির সংগঠন ISMA বলেছে, দেশে প্রকৃত অর্থে চিনির ঘাটতি নেই। তাদের মতে, সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে অনুমানমূলক ক্রয়, অতিরিক্ত মজুত এবং স্বল্পমেয়াদি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বড় ভূমিকা নিয়েছে। আর পর্যন্ত সরবরাহ বাজারে এলে আগামী সপ্তাহগুলিতে দাম কমার সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই সরকার শুধু আমদানি বাড়িয়ে সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাইছে না; আমদানি করা চিনি দ্রুত বাজারে পৌঁছানোর বাধ্যবাধকতা ও মজুতের সীমার ক্ষেত্রে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ কমাতে চাইছে। যার ফলে আগামী দিনে চিনির দাম কতটা কমে, সেটাই নজরে থাকবে।




