Article By – সুনন্দা সেন

কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৭-২৮ অর্থবছর (FY28)-এর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রক। এবার দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও দফতরকে তাদের আয় ও ব্যয়ের হিসাব আরও বাস্তবসম্মতভাবে তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সংশোধিত হিসাব (Revised Estimates) এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে সম্ভাব্য খরচের যথাযথ পূর্বাভাস দিতে বলা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রকের এই নির্দেশের মূল লক্ষ্য হল বাজেট তৈরির সময় অতিরিক্ত আশাবাদী বা অবাস্তব হিসাব এড়ানো। মন্ত্রকগুলিকে বলা হয়েছে, কোনও প্রকল্প বা খাতে যতটা টাকা সত্যিই প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী খরচের অনুমান করতে হবে। যাতে অর্থবর্ষের মাঝপথে বারবার এক খাত থেকে অন্য খাতে টাকা সরানোর প্রয়োজন না হয়।
এই মুহূর্তে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হল ভর্তুকির বাড়তি চাপ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাজেটে সার ভর্তুকির জন্য প্রায় ১.৭০ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, অর্থবর্ষের প্রথম দিকেই এর অর্ধেকের বেশি খরচ হয়ে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এই সংঘাতের কারণে সার, LNG এবং অন্যান্য রাসায়নিক পণ্যের আন্তর্জাতিক দাম ও সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।
শুধু সার নয়, খাদ্য ভর্তুকির খরচও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাজেট অনুমান ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে খাদ্য ভর্তুকির জন্য প্রায় ২.২৮ লক্ষ কোটি টাকা ধরা হয়েছিল। কিন্তু ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা MSP বৃদ্ধি এবং গম ও ধান সংগ্রহ বাড়ায় এই খরচ প্রায় ২.৫ লক্ষ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সরকারের আয় ও ব্যয়ের গতিও নজরে রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে কেন্দ্র মোট বাজেটকৃত রাজস্বের প্রায় ২৯% সংগ্রহ করেছে। অন্যদিকে, মোট বাজেট ব্যয়ের প্রায় ২৫.৪% ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। আর মূলধনী ব্যয়ের ক্ষেত্রেও প্রথম তিন মাসে প্রায় ২৮% খরচ হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৭-২৮ অর্থবছর (FY28)-এর বাজেটের আকার ২০২৬-২৭ অর্থবছর (FY27)-এর তুলনায় প্রায় ৪% থেকে ৫% বাড়তে পারে। মূলধনী ব্যয়ও একই হারে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভর্তুকির বাড়তি চাপের কারণে সরকারের সামনে আর্থিক ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অর্থ মন্ত্রক আগামী ১২ অক্টোবর ২০২৬ থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রি-বাজেট আলোচনা শুরু করার পরিকল্পনা করেছে। কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা মিড ইন্ডাস্ট্রি, শিল্পক্ষেত্র এবং সামাজিক ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে বাজেট নিয়ে মতামত নেওয়া হবে।




