Article By – সুনন্দা সেন

দেশের আর্থিক অবস্থার জন্য স্বস্তির খবর। চলতি অর্থবছরে ১ এপ্রিল থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের নেট ডাইরেক্ট ট্যাক্স (কর) সংগ্রহ ৮.৮২% বৃদ্ধি গেয়ে ১৮.৩৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। আয়কর বিভাগ দ্বারা প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের স্থিতিশীলতা ও কর ব্যবস্থার উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এছাড়া একই সময়কালে গ্রস ডাইরেক্ট কর সংগ্রহ হয়েছে প্রায় ২১.৫০ লক্ষ কোটি টাকা। তাই করদাতাদের দেওয়া রিফান্ড বাদ দেওয়ার পর নেট সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১৮.৩৮ লক্ষ কোটি টাকায়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, চলতি অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় ট্যাক্স রিফান্ডের অঙ্ক কমেছে। যার ফলে নেট কর সংগ্রহে বৃদ্ধির হার আরও স্পষ্ঠভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এছাড়া পরিসংখ্যান বলছে, এই কর আদায়ের বড় অংশ এসেছে কর্পোরেট ট্যাক্স এবং নন-কর্পোরেট ট্যাক্স থেকে। কর্পোরেট সংস্থাগুলির মুনাফা বৃদ্ধি, উৎপাদন ও পরিষেবা খাতে উন্নতি এবং ব্যবসায়িক কার্যকলাপ স্বাভাবিক হওয়ায় কর্পোরেট ট্যাক্স আদায় উন্নিত হয়েছে। অন্যদিকে ব্যক্তিগত আয়, পেশাদার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নন-কর্পোরেট ট্যাক্স সংগ্রহে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
আবার শেয়ার বাজারে লেনদেনের পরিমাণ বাড়ার ফলে সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স বা STT থেকেও সরকারের রাজস্ব আয় বেড়েছে। বাজারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ সরাসরি কর সংগ্রহে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ডিজিটাল কর ব্যবস্থাপনা, উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা, ফেসলেস অ্যাসেসমেন্ট এবং করদাতাদের স্বেচ্ছায় কর পরিশোধের প্রবণতা—সব মিলিয়ে কর সংগ্রহে এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাহিদা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের উন্নতিও কর আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এই কর সংগ্রহের পরিসংখ্যান আসন্ন কেন্দ্রীয় বাজেটের আগে সরকারের জন্য বড় স্বস্তির কারণ। সরকার চলতি অর্থবছরের জন্য ডাইরেক্ট ট্যাক্স আদায়ের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, জানুয়ারি পর্যন্ত সংগ্রহ সেই লক্ষ্যের পথে এগোচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে বাজেটে ব্যয় পরিকল্পনা, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও সামাজিক প্রকল্পগুলিতে বরাদ্দ নিয়ে সরকার আরও আত্মবিশ্বাসী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




