Article By – সুনন্দা সেন

মার্কিন রাজনীতিতে ফের বড়সড় আলোড়ন। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে এক নতুন বিলের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই বিল পাশ হলে রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি পণ্য আমদানি করা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ৫০০% পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর ক্ষমতা পারে আমেরিকা। এই প্রস্তাবিত বিলের নাম ‘Sanctioning Russia Act’। মার্কিন কংগ্রেসের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট – উভয় শিবিরের সমর্থনই রয়েছে এই বিলে।
বিলটির মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেনের সাথে যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়ার অর্থনৈতিক আয় কমানো এবং তাদের জ্বালানি পণ্যের রপ্তানিতে বড় আঘাত করা। এই প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছে ভারতের নাম। কারণ ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে রাশিয়ার সস্তা অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হয়ে উঠেছে ভারত। অবশ্য ভারত ছাড়াও চিন ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোকেও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই মুহূর্তে ৫০০% শুল্ক কার্যকর হচ্ছে না। এই হারটি একটি সর্বোচ্চ সীমা বা ‘সিলিং’। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে প্রয়োজন মনে করলে মার্কিন প্রশাসন এতটা কড়া শুল্ক আরোপ করতে পারবে, কিন্তু তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এমন শুল্ক সত্যিই আরোপ করা হয়, তাহলে তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি, ফার্মাসিউটিক্যালস ও ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের মতো খাতে মার্কিন বাজারে রপ্তানি ব্যয় অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক তেলের বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অবশ্য ভারতের অবস্থান স্পষ্ট, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে সাশ্রয়ী মূল্যে তেল কেনা জরুরি। নয়াদিল্লি বারবার জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনেই বাণিজ্য করছে এবং কোনও একক দেশের চাপের কাছে নত হওয়া সম্ভব নয়। এদিকে ট্রাম্প সমর্থিত এই বিল আপাতত একটি কড়া সতর্কবার্তা। বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হয়, সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব। বিশেষ করে ভারতসহ উদীয়মান অর্থনীতিগুলি।




