Article By – সুনন্দা সেন

মার্চ মাসে ভারতে পাম তেল আমদানি প্রায় ১৯% কমে গিয়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্চ,২০২৬-এ মোট আমদানি হয়েছে প্রায় ৬.৮৯ লক্ষ হাজার টন। যা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেলের দাম বৃদ্ধি। এনার্জি মার্কেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাম তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভারতীয় আমদানিকারকরা এখন কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। আর তারা কোনো প্রকার বড় পরিমাণে বাণিজ্য না করে অপেক্ষা করছেন।
এর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে সরিষার নতুন ফসল বাজারে আসায় ভোজ্য তেলের সরবরাহ বেড়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে পাম অয়েলের উপর নির্ভরতা কিছুটা কমেছে। শুধু পাম অয়েল নয়, সামগ্রিকভাবে ভোজ্য তেলের আমদানিও মার্চ মাসে কমেছে। মোট ভোজ্য তেলের বা এডিবেল অয়েলের আমদানি প্রায় ৯% কমে দাঁড়িয়েছে ১১.৭ লক্ষ টনে, যা গত প্রায় এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে এই পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
যেমন ধরুন, সূর্যমুখী তেলের আমদানি প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ, পাম অয়েলের পরিবর্তে আমদানিকারকরা এখন বিকল্প তেলের দিকে ঝুঁকছেন। অন্যদিকে সয়াবিন তেলের আমদানি সামান্য হ্রাস পেয়েছে। ভারত মূলত ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে পাম অয়েল আমদানি করে থাকে, আর সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেল আসে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে আমদানি কমলেও এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে পড়তে পারে। যদি এই প্রবণতা চলতে থাকে, তাহলে দেশে পাম তেল মজুত কমে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে হঠাৎ করে আমদানি বাড়াতে হতে পারে।




