Article By – সুনন্দা সেন

আজকের অর্থনীতি ও বাজার সংক্রান্ত বড় খবর হলো, ভারতের ভেজিটেবল অয়েল (সয়াবিন ও সানফ্লাওয়ার অয়েল) আমদানিকারীরা তাদের ক্রয় প্রবণতা কমাতে শুরু করছে। তারা আশা করছে যে যুদ্ধ চালিত দাম বাড়ার চাপ অল্প সময়ের মধ্যে কমে যাচ্ছে। এই অবস্থার ফলে বিশ্ববাজারে দাম ওঠানামা সাময়িকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভেজিটেবল অয়েল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারত সাম্প্রতিক সময়ে পাম অয়েল, সয়া অয়েল এবং সানফ্লাওয়ার অয়েলের আমদানি কমিয়েছে। আর এর মূল কারণ হলো, আন্তর্জাতিক স্তরে অস্থিরতা। তবে আমদানিকারকরা মনে করছেন এই বাড়তি চাপ স্থায়ী নয়।
তাই আমদানিকারীরা অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রয় কমিয়ে দাম আবারও কমে আসার। সাম্প্রতিক হিসেবে, গত বছর ভারতেই ভেজিটেবল অয়েলের মাসিক গড় আমদানি ছিল প্রায় ১৩.৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন, কিন্তু মার্চ, ২০২৬-এ এটি কমে প্রায় ১১ মিলিয়ন টনে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে পাম অয়েলের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে। যদিও কিছু মূল্য সংশোধন হয়েছে এবং পাম অয়েলের দাম কিছুটা কমেছে, অনেক আমদানিকারী এখনো ‘ওয়েট-এন্ড-ওয়াচ’ মনোভাব নিয়ে চলছে। আগের মতো হুড়মুড় করে সংগ্রহ করছে না।
এদিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ মজুতও ভালো অবস্থায় আছে এবং রেকর্ড পরিমাণ সরিষা বীজের ফলন শুরু হয়েছে, যা আমদানির হ্রাসের প্রভাব কমাতে সহায়তা করছে। এতে কিছুটা করে দেশীয় এডিবেল অয়েল উৎপাদন ও দামের স্থিতিশীলতা মিলছে। ভারত সাধারণত পাম অয়েল ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে, আর সয়াবিন ও সানফ্লাওয়ার অয়েল আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে আমদানি করে থাকে। তাই হয়তো আমদানিকারীরা মনে করছেন যোগান পর্যাপ্ত ও দাম আবারও স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে। এই খবর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ও সরবরাহ সংকট নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করলেও ভারতের তরফ বাজারে নতুন করে আলোড়ন তৈরিও হয়েছে।




