Article By – সুনন্দা সেন

সূত্রের বরাত দিয়ে দেশের সংবাদ মাধ্যমগুলি জানিয়েছে, ভারত ও আমেরিকা একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা অগ্রসর পর্যায় রয়েছে। যা সম্পন্ন হলে ভারতীয় রপ্তানির উপর বর্তমান ৫০% শুল্ক থেকে ১৫% থেকে ১৬%-এ নেমে আসতে পারে। অবশ্য এর আগে প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্ঠা বা CEA ভি অনন্ত নাগেশ্বরন দুই দেশের মধ্যে শুল্ক বিরোধের বিষয় আশাবাদী ছিলেন। আর বলেছিলেন যে আগামী দুই মাসের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এই উদ্দেশ্যে হোয়াইট হাউস কর্তৃক নিজে থেকে আরোপিত শাস্তিমূলক শুল্ক (Penal Levies) শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার করবে। এছাড়া নাগেশ্বরন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে পারস্পরিক শুল্ক ২৫% থেকে কমিয়ে ১০% থেকে ১৫%-এর মধ্যে করার আলোচনা চলছে।
সদ্য প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে, ভারত ধীরে ধীরে রাশিয়ান তেল। আমদানি কমাতে একমত হতে পারে। কারণ ভারত- আমেরিকার বিবাদের মূল বিষয় কৃষি এবং জ্বালানি। রাশিয়ান তেল ক্রয় করার জন্যের ভারতীয় রপ্তানির উপর ট্রাম্প এপ্রিল মাসে ঘোষিত ২৫% পারস্পরিক শুল্কের চেয়ে অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক আরোপ করেন। কারণ ভারত রাশিয়া থেকে প্রায় ৩৪% অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। যেখানে দেশের বর্তমান তেল ও গ্যাসের চাহিদার মাত্র ১০% মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা হয়। যেখানে ইউরোপিয় ইউনিয়ন সদস্য ইউক্রেনের সাথে রাশিয়া যুদ্ধে অব্যহতি না দিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।
এদিকে মার্কিন বেশকিছু পণ্য রপ্তানি চীন কমিয়ে দেওয়ায় নতুন গ্রাহক খুঁজছে আমেরিকা। এমন অবস্থায় অনুমান করা হচ্ছে যে চলতি মাসের শেষের দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে এই বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করা হতে পারে। তবে দুই নেতা এখনও শীর্ষ সম্মেলনে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেননি। প্রতিবেদন অনুসারে, ভারত ইথানল আমদানির অনুমতি দেওয়ার এবং রাশিয়ান তেল ক্রয় কমানোর কথা বিবেচনা করছে, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি বাণিজ্যে ছাড় দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের উৎস বৈচিত্র্যময় করার পরামর্শ দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।




