Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকার গয়নার বাজারে সোনার দাম বাড়ার সাথে সাথে ব্যাবসার ধরনও বদলে যাচ্ছে। ক্রেতারা আগের মতো ভারী গয়না না কিনে হালকা ওজনের ডিজাইন, কম ক্যারেটের সোনা এবং হীরা খচিত গয়নার (Diamond Studded Jewellery) দিকে ঝুঁকছে। একই সঙ্গে পুরনো সোনার বদলে নতুন গয়না নেওয়ার প্রবণতাও দ্রুত বাড়ছে।
বিশ্ব স্বর্ণ পরিষদ (World Gold Council)-এর ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের জুয়েলারী ডিমান্ড বছরে ১৫% কমে ৭৫ টনে নেমেছে, কিন্তু টাকার হিসাবে গহনার খরচ ৩৪% বেড়ে ১.১৩ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে। অর্থাৎ মানুষ কম পরিমাণ সোনা কিনলেও বেশি টাকা খরচ করছে। বিনিময় ক্রয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তবে কিছু রিটেইলের ক্ষেত্রে মোট বিক্রির ৭০% পর্যন্ত এক্সচেঞ্জ থেকে এসেছে। আর এই পরিস্থিতিতে বড় জুয়েলারী ব্র্যান্ডের ব্যাবসায়িক কৌশল বদলাচ্ছে।
কোম্পানি শুধু গোল্ড সেলিং বিজনেসের ওপর নির্ভর না করে লাইটারের ডিজাইন, হীরা, পার্সোনালি জুয়েলারি এবং তরুণ গ্রাহকদের (younger customers)-কে টার্গেট করছে। পুরনো সোনা ক্যাশ বা এক্সচেঞ্জ করার প্রবণতাও রিটেইলারদের জন্য নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করছে। আর একটি বড় পরিবর্তন হল, ভারতের সোনার চাহিদা ধীরে ধীরে গহনা থেকে বিনিয়োগের দিকে সরে যাচ্ছে। প্রথম ত্রৈমাসিক, ২০২৬-এ বারস, কয়েন এবং ETFs মিলিয়ে বিনিয়োগ চাহিদা ৮২ টনে পৌঁছেছিল, যেখানে গহনার চাহিদা ছিল ৬৬ টন।
সোনার দাম বাড়ায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা বাজার ছোট হচ্ছে না। বরং তার ব্যবসায়িক ধরন (business model) বদলে যাচ্ছে। কম সোনার পরিমাণ (gold quantity), বেশি- মূল্যের পণ্য, পুরনো সোনার এক্সচেঞ্জ এবং বিনিয়োগ প্রোডাক্টের মত চারটি ট্রেন্ড (trend) এখন ভারতীয় সোনার বাজারের নতুন চালিকাশক্তি।




