Article By – সুনন্দা সেন

মাত্র এক দশকের মধ্যে দশম স্থান থেকে চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে ভারতের অসাধারণ যাত্রা দেশের ক্রমবর্ধমান বিশ্বব্যাপী প্রভাব এবং স্থিতিস্থাপক প্রবৃদ্ধির গতিতে প্রতিফলিত করে। নিউ ইয়র্কে কোটাক ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়া ইনসাইট সামিটে বক্তৃতা দিতে গিয়ে কোটাক মাহিন্দ্রা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (AMC)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর নিলেশ শাহ বলেন, ভারতের অর্থনৈতিক যাত্রা শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ ভোগ (Consumption), প্রাণবন্ত পরিষেবা খাত এবং উৎপাদন সম্প্রসারণের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। যা সম্মিলিত ভাবে ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতের GDP ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে সহায়তা করেছে।
এছাড়াও শাহ বলেন, মাথাপিছু GDP ২,৯৪০ ডলারের সামান্য হলেও, এটি বিশ্বব্যাপী ক্ষেত্রে ১৩৬তম স্থান পেয়েছে। এছাড়া এই এক দশকে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের অবদান ক্রমশ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে ৮% থেকে ১০% ভারতের অংশীদারিত্ব রয়েছে। এছাড়া ভারতের ইক্যুইটি মার্কেটগুলি ২০২০ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ১৩.৭% বার্ষিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। রাজস্ব (fiscal) শৃঙ্খলার উপর জোর দিয়ে শাহ উল্লেখ করেন যে ভারতের সমন্বিত ঘাটতি GDP-এর প্রায় ৭% হলেও, এটি একমাত্র প্রধান অর্থনীতি হিসাবে দাঁড়িয়ে। যারা ২০০৮ সালের বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকট এবং ২০২০-২০২১ সালের কোভিড-১৯ ধাক্কার পরও শক্তিশালী রুপে এগিয়ে এসেছে।
UBS (Union Bank of Switzerland)-এর বিশ্লেষকরা সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলেছেন, ভারত ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে ৬.৫% বার্ষিক প্রকৃত GDP প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে পারে। যা দেশটিকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ভোক্তা বাজারে পরিণত করার সাথে ২০২৮ সালের মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যকে সহায়তা করবে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলে ভারত মাত্র তিন বছরে অর্থনৈতিক দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের পরে পৌঁছাবে। এছাড়া তারা বিশ্বাস করেন যে বিশ্বব্যাপী প্রবৃ্ধি ২০২৫ সালে ৩.২% থেকে ২০২৬ সালে সামান্য হ্রাস পেয়ে ৩.১%-এ দাঁড়াতে পারে। তবে তা ২০২৮ সালে ৩.৩%-এ উন্নীত হবে।




