Article By – সুনন্দা সেন

দুই বছরের বিরতির পর অবশেষে আবার শুরু হলো কানাডা ও ভারতের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি, CEPA (Comprehensive Economic Partnership Agreement) নিয়ে আলোচনা। ২০২৩ সালে কূটনৈতিক টানাপোড়নের কারণে এই আলোচনা স্থগিত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বৈঠকে পরিস্থিতি বদলে গেছে, উভয় দেশই অতীতের দূরত্ব সরিয়ে রেখে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন জানা গেছে, এই পুনরায় শুরু হওয়া আলোচনার লক্ষ্য অত্যন্ত উচ্চভিলাষী। ভারত চায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বাড়াতে। অন্যদিকে কানাডা আরও বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, প্রায় ৭০ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার বাণিজ্য টার্গেট রাখতে চায় তারা।
এই আসন্ন CEPA চুক্তি শুধুমাত্র পণ্য বাণিজ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর আওতায় আসতে চলেছে, পরিষেবা, বিনিয়োগ, কৃষি-খাদ্য, ডিজিটাল ট্রেড, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন ও প্রযুক্তি সহযোগিতা। বিশেষ ভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে দুটি ক্ষেত্র – ক্রিটিক্যাল মিনারেল (লিথিয়াম, নিকেল, কোবাল্ট) এবং ক্লিন এনার্জি। যেখানে কানাডা বিশ্বের অন্যতম বড় সরবরাহকারী এবং ভারত একটি দ্রুত-বর্ধনশীল বাজার। এছাড়া আরও জানা যাচ্ছে যে দুই দেশের মধ্যে নাগরিক পারমানবিক শক্তি সহযোগিতা (Civil nuclear cooperation) আবার জোরদার হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কানাডা ভারতের সঙ্গে প্রায় ২.৮ বিলিয়ন ডলারের ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি সফল হলে ভারতের IT পরিষেবা, ফার্মা, কৃষি–খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, স্টার্টআপ ও টেক–সেক্টর কানাডার বাজারে বড় সুযোগ পাবে। অন্যদিকে কানাডা ভারতের বিপুল বাজারে প্রবেশ করতে পারবে কৃষিপণ্য, খনিজ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং নবায়নযোগ্য বা Renewable এনার্জির সরঞ্জাম নিয়ে। কানাডার জন্যও এই পদক্ষেপ কৌশলগত। দেশের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর নির্ভরশীল। তাই ভারত–কানাডা বাণিজ্য চুক্তি তাদের জন্য একটি বড় বিকল্প বাজার ও নতুন কৌশলগত অংশীদারিত্ব তৈরি করতে পারে।
ব্যবসায়ী মহল এই আলোচনার পুনরারম্ভকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। বিভিন্ন চেম্বার অব কমার্স বলছে, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে যে অবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে অর্থনৈতিক সহযোগিতার দিকে ফিরে আসা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বড় একটি আশার আলো। বিশেষ করে ক্রিটিক্যাল মিনারেল, IT পরিষেবা ও ক্লিন এনার্জি খাত এই চুক্তির ফলে ব্যাপকভাবে লাভবান হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন—এখনও বেশ কিছু নীতিগত মতপার্থক্য দূর করতে হবে। কৃষিপণ্যের বাজার প্রবেশ, শুল্ক কাঠামো, ভিসা ও কাজের সুযোগ, এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা—এসব বিষয় নিয়ে আরও গভীর আলোচনা জরুরি।




