Article By – আস্তিক ঘোষ

ফের কমছে ইস্পাতের দাম। আমদানি করা ইস্পাতের জন্যই ইস্পাতের দাম নিম্নমুখী। কিছু ইস্পাত পণ্যের দাম এত দ্রুত কমেছে, যে সেই সব পণ্যের দাম তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার ইস্পাতের আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি করুক, এমনটাই চাইছেন দেশীয় ইস্পাত উৎপাদনকারীরা। এছাড়াও, যেসব দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) আছে সেই বিষয়েও সময়ে সময়ে পর্যালোচনা করা উচিত।
বাজার গবেষণা সংস্থা বিগমিন্টের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, 2022 সালের এপ্রিলে প্রতি টন প্রতি দাম 76,000 টাকা হট রোল্ড কয়েলের (HRC) দাম বর্তমানে 51,000 টাকায় নেমে এসেছে। কোল্ড রোল্ড কয়েলের (CRC) দাম 2022 সালের এপ্রিলে প্রতি টন প্রতি 86,300 টাকা ছিল। তা কমে 58,200 টাকা হয়েছে বর্তমানে।তবে এই দামে পণ্যের উপর 18 শতাংশ জিএসটি অন্তর্ভুক্ত নয়।
ভারতে ইস্পাতের দাম কমার প্রধান কারণ হল আমদানি বৃদ্ধি। যে কারণে দেশীয় ইস্পাতের দাম তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বিগমিন্ট তার প্রতিবেদনে বলেছে, “ভারতে এইচআরসি এবং সিআরসি হার তাদের তিন বছরের সর্বনিম্নে লেনদেন করছে। আমদানির ঊর্ধ্বগতি অভ্যন্তরীণ দামকে প্রভাবিত করেছে, যার ফলে চাহিদা প্রভাবিত হয়েছে”। তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে আমদানি 68 শতাংশ বেড়ে 1.9 মিলিয়ন টন (MT) হয়েছে। গত 2023-24 অর্থবর্ষে একই সময়ের মধ্যে আমদানির পরিমাণ ছিল 1.15 মিলিয়ন টন।
ভারতে ইস্পাতের দাম কমার মূল কারণ হিসেবে চিন থেকে আসা স্টিলকেই দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রকৃতপক্ষে, বর্তমানে আমদানিকৃত স্টিলের উপর 7.5 শতাংশ আমদানি শুল্ক রয়েছে। কিন্তু স্মার্ট আমদানিকারকরা এই শুল্কও পরিশোধ করেন না। আসলে, এশিয়ান দেশগুলির সঙ্গে ভারতের একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ রয়েছে। এর পাশাপাশি, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং জাপানের সঙ্গেও এফটিএ চুক্তি রয়েছে ভারতের। শুধুমাত্র চীনা ইস্পাত অর্ডার করে ভারতের কিছু আমদানিকারক। কিন্তু সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, জাপান, ভিয়েতনামের মতো দেশেও চিনা স্টিলের চাহিদা বিশাল। ভারতের পণ্যও সেখানকার একটি বন্দর দিয়ে চলাচল করে। এভাবেই ভারতীয় বাজারে শুল্কমুক্ত হয়েই আসে চিনা স্টিল।
ভারতের কিছু বড় ইস্পাত নির্মাতারা আবারও সরকারের কাছে স্টিলের আমদানি শুল্ক 7.5 শতাংশ থেকে বাড়িয়ে 12.5 শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে। তাঁরা বলছেন, চিন থেকে সস্তায় ইস্পাত আমদানি স্থানীয় শিল্পকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এই কারণে, ভারতীয় ইস্পাত প্রস্তুতকারকদের ব্যালেন্স শীটও সমস্যায় পড়েছে। এই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের ইস্পাত মন্ত্রকও শুল্ক বাড়ানোর বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলেছে বলে জানা গেছে।





