Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের শেয়ারবাজারে টানা পাঁচ দিনের বিক্রির চাপে সেনসেক্স প্রায় ২,০৯২ পয়েন্ট এবং নিফটি৫০ ৫৬৭ পয়েন্ট হারিয়েছে। সপ্তাহের শেষ ট্রেডিং সেশনে (শুক্রবার) সেনসেক্স ৭৬,০৫৯.৭৭ এবং নিফটি৫০ ২৩,৭৬৭-এ লেনদেন শেষ করেছে, যা গত ১২ জুন, ২০২৬-এর পর সর্বনিম্ন ক্লোজিং। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষকদের মতে, আগামী সপ্তাহের জন্য ২৩,৬০০ স্তরটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট। যদি নিফটি এই স্তরের নীচে নেমে যায়, তাহলে বাজারে আরও বড় ধরনের সংশোধন দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে বাজার ঘুরে দাঁড়ালেও ২৪,০০০ – ২৪,২০০-এর স্তরটি শক্তিশালী রেজিস্ট্যান্স হিসেবে কাজ করতে পারে।
এছাড়া এটিও লক্ষ্য রাখার বিষয় হলো বর্তমানে এই পতনের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ব্রেন্ট ক্রডের দাম ১০০ ডলারের ওপরে, দুর্বল কর্পোরেট ফলাফল, রুপির চাপ এবং বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিক্রি-সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব দুর্বল হয়েছে। তবে কিছু বিশ্লেষকের মতে, শুক্রবার দিনের শেষদিকে কেনার আগ্রহ দেখা যাওয়ায় স্বল্পমেয়াদে একটি রিলিফ র্যালি হতে পারে। কিন্তু সেই র্যালি টেকসই হবে কিনা, তা নির্ভর করবে নিফটির স্তর ২৪,০০০-এর ওপরে ফিরতে পারে কিনা এবং ২৩,৬০০ স্তর ধরে রাখতে পারে কিনা।
তার ওপর সেনসেক্স ও নিফটির টানা পতন শুধু শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য নয়, গোটা অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। বাজারে বড় ধরনের সংশোধন হলে বিদেশী বিনিয়োগ কমতে পারে। কোম্পানিগুলোর নতুন মূলধন সংগ্রহ কঠিন হতে পারে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা দুর্বল হতে পারে। একই সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের উচ্চ দাম, দুর্বল কর্পোরেট ফলাফল এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে আগামী সপ্তাহেও বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আগামী কয়েকটি ট্রেডিং সেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।




