Article By – সুনন্দা সেন

ভারতীয় শেয়ারবাজারে আজ টেক্সটাইল ও চিংড়ি রপ্তানিকারক সংস্থাগুলির শেয়ারে জোরালো উত্থান দেখা গেছে। কিছু ক্ষেত্রে দাম বেড়েছে প্রায় ৮% পর্যন্ত। এই হঠাৎ উত্থানের মূল কারণ হিসেবে বাজার বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাষ্ট্র–ভারত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নতুন করে তৈরি হওয়া আশাবাদকে চিহ্নিত করছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে—এই চুক্তি কি সত্যিই চূড়ান্ত হওয়ার পথে, নাকি বাজার আগেভাগেই আশায় ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে? সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ডাভোস সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ভারতের সঙ্গে একটি “ভাল বাণিজ্য চুক্তি” হওয়ার বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন।
এই মন্তব্যগুলিই মূলত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থা জুগিয়েছে। বিশেষ করে যেসব খাত সরাসরি মার্কিন বাজারের উপর নির্ভরশীল, যেমন টেক্সটাইল ও চিংড়ি রপ্তানি, সেখানেই সবচেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছরে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় কিছু পণ্যের উপর উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করেছিল। এর ফলে টেক্সটাইল ও সামুদ্রিক খাদ্য রপ্তানিকারক সংস্থাগুলির মুনাফা মারাত্মকভাবে চাপে পড়ে। শেয়ারদরও তখন বড়সড় পতনের মুখে পড়ে। এখন যদি সেই শুল্ক নীতিতে শিথিলতা আসে বা আংশিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়, তাহলে এই সংস্থাগুলির আয় ও লাভ দ্রুত বাড়তে পারে—এই প্রত্যাশাই বাজারে প্রতিফলিত হচ্ছে।
চিংড়ি রপ্তানিকারক সংস্থাগুলির মধ্যে অবন্তি ফিডস, অ্যাপেক্স ফ্রোজেন ফুডস ও কোস্টাল কর্পোরেশনের শেয়ারে উল্লেখযোগ্য কেনাকাটা দেখা গেছে। অন্যদিকে, টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল খাতে গোকুলদাস এক্সপোর্টস, পার্ল গ্লোবাল ও রেমন্ড লাইফস্টাইলের মতো সংস্থার শেয়ারেও চাঙ্গাভাব লক্ষ্য করা যায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্থানের একটি বড় অংশই শর্ট কভারিং এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে আগাম বিনিয়োগ। তবে বাস্তব চিত্রটা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। এখনও পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি, এমনকি নির্দিষ্ট সময়সীমাও ঘোষণা করা হয়নি।
সরকারি স্তরে আলোচনা চলছে ঠিকই, কিন্তু তা ধাপে ধাপে এগোনোর সম্ভাবনাই বেশি। প্রথম পর্যায়ে সম্পূর্ণ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বদলে কিছু নির্দিষ্ট খাতে শুল্ক ছাড় বা নীতিগত সুবিধা দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা তাই বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। যদি আলোচনা থেকে বাস্তব নীতিগত সিদ্ধান্ত আসে, তাহলে এই খাতে আরও উত্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু শুধুমাত্র বক্তব্য বা ইঙ্গিতের উপর ভর করে বাজার অনেকটা এগিয়ে গেলে, পরবর্তীতে সংশোধনের ঝুঁকিও থেকে যায়।




