Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম টেলিকম সংস্থা ভোডাফোন আইডিয়া (Vi) আগামী তিন বছরে প্রায় ৪৫,০০০ কোটি মূলধনী বিনিয়োগ বা ক্যাপেক্স করার ঘোষণা করেছে। দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ ও গ্রাহক হারানোর প্রবণতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতেই এই বড়সড় বিনিয়োগ পরিকল্পনা। সংস্থার CEO অভিজিৎ কিশোর জানিয়েছেন, এই বিনিয়োগের মূল লক্ষ্য হল নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা, ৪জি কভারেজে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমকক্ষ হওয়া এবং শহরাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন ৫জি পরিষেবা চালু করা। এর মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরে ডাবল-ডিজিট রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়েছে সংস্থা।
সংস্থার ‘Vi 2.0’ রিসেট প্ল্যান অনুযায়ী, আগামী তিন বছরে ২২টি টেলিকম সার্কিটের মধ্যে ১৭টিতে নেটওয়ার্ক কভারেজ বাড়ানো হবে। পাশাপাশি যেসব অঞ্চলে এখনও ২জি পরিষেবা চালু রয়েছে, সেখানে ধাপে ধাপে ৪জি ও ৫জি নেটওয়ার্কে রূপান্তর করা হবে। এই ক্যাপেক্সের একটি বড় অংশ টাওয়ার সংযোজন, স্পেকট্রাম দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ডেটা সক্ষমতা বাড়ানোর পেছনে খরচ হবে। সংস্থার দাবি, এর ফলে গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নত হবে এবং সাবস্ক্রাইবার চর্ন কমানো সম্ভব হবে। ভোডাফোন আইডিয়ার এই নতুন আত্মবিশ্বাসের পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে অ্যাডজাস্টেড গ্রস রেভিনিউ বা AGR সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান।
সরকার সম্প্রতি AGR বকেয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যাক-এন্ডেড পরিশোধ সূচি অনুমোদন করায় সংস্থার ওপর থেকে বড় আর্থিক চাপ কিছুটা কমেছে। কুমার মঙ্গলম বিড়লা বলেছেন, এই AGR স্বস্তিই ভোডাফোন আইডিয়ার কাছে একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’, যার ফলে সংস্থা এখন শুধুমাত্র টিকে থাকার লড়াই থেকে বেরিয়ে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করতে পারছে। আর্থিক দিক থেকেও সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিকে কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছে। প্রিমিয়াম ডেটা ব্যবহার বাড়ায় ভোডাফোন আইডিয়ার ক্ষতির পরিমাণ কমেছে ও প্রতি গ্রাহক থেকে প্রাপ্ত গড় আয় বেড়েছে।
আর সংস্থার লক্ষ্য, আগামী তিন বছরে ক্যাশ ইবিটডা তিনগুণ করা এবং রাজস্ব বৃদ্ধিকে স্থায়ী পথে নিয়ে যাওয়া। তবে বিশ্লেষকদের মতে, চ্যালেঞ্জ এখনও কম নয়। রিলায়েন্স জিও ও ভারতী এয়ারটেলের তুলনায় ভোডাফোন আইডিয়ার বাজার অংশীদারিত্ব ও আর্থিক শক্তি এখনও দুর্বল। তবুও ৪৫,০০০ কোটি টাকার এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এবং নেটওয়ার্ক মানে দৃশ্যমান উন্নতি হলে, আগামী কয়েক বছরে ভোডাফোন আইডিয়া আবারও প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থান নিতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।




