Article By – সুনন্দা সেন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করে ভারতের অর্থনীতিতে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি ইন্ডাস্ট্রি বা MSME খাত বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮০০টি ভারতীয় ছোট কোম্পানির মোট ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ এখন ঝুঁকির মধ্যে। এই সংস্থাগুলির অনেকেই পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ব্যবসা পরিচালনা করে বা সেখানে বিনিয়োগ করেছে। ফলে ওই অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তাদের প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ স্ট্রেট অফ হরমুজ (Strait of Hormuz)-এ উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় জাহাজ চলাচল ঝুঁকি মুখে পড়েছে। এই রুট দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল পরিবহন হয়। ফলে এই অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়লে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়ে। এই সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রড অয়েলের দাম বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতীয় শিল্পে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়ে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বাড়ে এবং সামগ্রিকভাবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। এর ফলে ছোট কোম্পানিগুলির লাভের মার্জিন কমে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, MSME খাত সাধারণত সীমিত মূলধন ও কম মুনাফার উপর নির্ভর করে চলে। তাই এই ধরনের আন্তর্জাতিক অস্থিরতা তাদের জন্য বড় আঘাত হয়ে দাঁড়ায়। ইতিমধ্যেই কিছু সংস্থা উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে এবং নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা স্থগিত রাখছে। এর পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সেই অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়লে ভারতের রপ্তানি, আমদানি এবং সামগ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই পরিস্থিতির প্রভাব প্রবাসী ভারতীয়দের উপরও পড়তে পারে। পশ্চিম এশিয়ার বহু ভারতীয় কর্মরত রয়েছেন। সংঘাত বাড়লে তাদের আয় এবং দেশে পাঠানো অর্থ বা রেমিট্যান্সের উপরও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া এও বলা চলে যে US-ইরান সংঘাত এখন শুধু একটি ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা নয়, বরং এটি ভারতের স্মল ইন্ডাস্ট্রি, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।




