Article By – সুনন্দা সেন

ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আপডেটেড ট্রেড ডিল ফ্যাক্টশিট প্রকাশের পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সামনে এসেছে। বিশেষ করে কৃষি ও আমদানি সংক্রান্ত বিষয়ে বড় সংশোধন দেখা গেছে। আগের খসড়ায় যে ডাল আমদানির বিষয়টি আলোচনায় ছিল, তা নতুন ফ্যাক্টশিটে বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য ও পরিষেবা ক্রয়ের যে ধারা ছিল, সেটিতেও ভাষাগত ও কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাণিজ্য মহলের মতে, ডাল সংক্রান্ত ইস্যুটি ভারতের অভ্যন্তরীণ কৃষি স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। দেশীয় কৃষকদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এই অংশটি চূড়ান্ত চুক্তি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আবার ডাল আমদানির ক্ষেত্রে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই শুল্ক ও কোটার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। ফলে এই বিষয়ে ছাড় না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কৌশলগত বলেই মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ৫০০ বিলিয়ন ডলারের ক্রয় শর্তে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। আগের খসড়ায় নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিপুল অঙ্কের মার্কিন পণ্য ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার ইঙ্গিত ছিল। আপডেটেড ফ্যাক্টশিটে সেটিকে আরও নমনীয় ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য কাঠামোয় রূপ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতার বদলে এখন এটি সম্ভাব্য বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংশোধনের ফলে চুক্তিটি ভারতের জন্য আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে। এতে একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব হবে, অন্যদিকে দেশের আর্থিক ও কৃষি স্বার্থও রক্ষা পাবে। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে। এই আপডেটেড ফ্যাক্টশিট স্পষ্ট করছে যে, দুই দেশই বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব বাড়াতে আগ্রহী। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে।




