Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের শীর্ষ IT সংস্থা উইপ্রো (Wipro) আবারও বড়সড় শেয়ার বাইব্যাক ঘোষণা করেছে। কোম্পানির বোর্ড প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকার এই বাইব্যাক প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যা বাজারে ইতিমধ্যেই আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই বাইব্যাকের অধীনে উইপ্রো প্রতি শেয়ার ২৫০ টাকা দামে শেয়ার পুনঃক্রয় করবে। এই দামটি কোম্পানির সাম্প্রতিক বাজারদরের তুলনায় প্রায় ১৯% বেশি, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় প্রিমিয়াম হিসেবে ধরা হচ্ছে। সাধারণত, যখন কোনো কোম্পানি বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে শেয়ার কিনতে চায়, তখন সেটি কোম্পানির আর্থিক শক্তি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার উপর আস্থার ইঙ্গিত দেয়।
এই বাইব্যাকটি ‘টেন্ডার অফার’ পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে। এর অর্থ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেয়ারহোল্ডাররা তাদের শেয়ার কোম্পানির কাছে বিক্রির জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘রেকর্ড ডেট’। এই নির্দিষ্ট তারিখে যেসব বিনিয়োগকারীর ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে উইপ্রোর শেয়ার থাকবে, শুধুমাত্র তারাই এই বাইব্যাকে অংশ নিতে পারবেন। এখনো পর্যন্ত কোম্পানি এই রেকর্ড ডেট ঘোষণা করেনি, তবে শীঘ্রই তা জানানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বড় বাইব্যাক সাধারণত বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। যেমন –
- প্রথমত, এটি কোম্পানির শেয়ারের চাহিদা বাড়ায়, ফলে শেয়ারের দামে স্বল্পমেয়াদে একটি স্থিতিশীলতা বা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়।
- দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগকারীরা বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে শেয়ার বিক্রি করার সুযোগ পান, যা অনেকের জন্য লাভজনক হতে পারে।
তবে সব বিনিয়োগকারী সমানভাবে লাভবান হবেন না। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো ‘অ্যাকসেপ্টেন্স রেশিও’। অর্থাৎ, আপনি যত শেয়ার বাইব্যাকের জন্য অফার করবেন, তার কত শতাংশ কোম্পানি কিনবে। অতীতে দেখা গেছে, ছোট বা রিটেল বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে এই রেশিও তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে, ফলে তাদের লাভের সম্ভাবনাও বেশি হতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোম্পানির প্রোমোটাররাও এই বাইব্যাকে অংশগ্রহণ করতে পারেন। যদি প্রোমোটাররা বড় পরিমাণ শেয়ার অফার করেন, তাহলে অন্য বিনিয়োগকারীদের জন্য গ্রহণযোগ্য শেয়ারের পরিমাণ কিছুটা কমে যেতে পারে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রায় তিন বছর পর উইপ্রো এই ধরনের বড় বাইব্যাক ঘোষণা করেছে। এর আগে কোম্পানি একাধিকবার শেয়ার বাইব্যাকের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছে অতিরিক্ত নগদ ফিরিয়ে দিয়েছে। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ইঙ্গিত মিলছে।




