Article By – সুনন্দা সেন

দেশের ফিন্যান্সিয়াল ক্যাপিটাল মুম্বাই থেকে বড় অর্থনৈতিক খবর সামনে আসছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US) ও ইরানের মধ্যে শান্তির আলোচনার আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। এর ফলে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে ভারতীয় মুদ্রা ‘রুপি’ এবং সরকারি বন্ড মার্কেট। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ব্রেন্ট ক্রডের দাম কমে প্রায় ৯০ ডলারের কাছাকাছি এক স্তরে ঘোরা ফেরা করছে। আর এই পতনের মূল কারণ হলো, US ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনার পূর্বাভাস।
যা ভারতের মতো তেল আমদানি নির্ভর দেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তেলের দাম কমলে আমদানি খরচ কমে, ফলে রুপির চাপও কিছুটা কমতে থাকে। গত সপ্তাহে রুপি প্রায় ৯২.৯২-এ প্রতি ডলারে লেনদেনে বন্ধ হয়েছিল এবং বিশ্লেষকদের মতে, আপাতত এটি ৯২.৫০ থেকে ৯৩.৫০-এর মধ্যে ওঠানামা করতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি বন্ড মার্কেটেও ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। ১০ বছরের মেয়াদী বন্ডের ইয়েল্ড সামান্য কমে প্রায় ৬.৯%-এর কাছাকাছি রয়েছে। সাধারণত তেলের দাম কমলে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা কমে, ফলের বন্ডের চাহিদা বাড়ে এবং ইয়েল্ড কমে।
তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। এখনও হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি, যা বিশ্বব্যাপী তেল সরকারের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। এর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীরা চলতি বছর ভারতীয় বাজার থেকে প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলার উইথড্রো করেছে বা তুলে নিয়েছে। আর এই প্রবণতা রুপির ওপর চাপ বজায় রাখতে পারে। আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো – এই শান্তির আলোচনা সফল হবে কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়। যদি আলোচনা ফসল না হয় সেক্ষেত্রে তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে, যা রুপি ও বন্ডের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আপাতত বাজার কিছুটা স্বস্তি পেলেও সামনের দিনগুলোতে তেল, রুপি এবং বন্ড—এই তিনটি ক্ষেত্রেই অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া তারা আরও বলেন যে তেলের দাম কমায় ভারতীয় অর্থনীতিতে সাময়িক স্বস্তি এসেছে, কিন্তু বৈশ্বিক পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত।




