Article By – সুনন্দা সেন

রয়টার্স জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরামর্শে কাজ করার সম্ভাবনা কম। মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার তেলের ক্রেতা ভারত ও চীনের বিরুদ্ধে ১০০% শুল্ক আরোপের দাবি জানিয়েছেন, যাতে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে চাপে ফেলা যায়। আর দাবি তিনি ৯ সেপ্টেম্বর সরাসরি EU সেকশন এনভয় ডেভিড ও সুলিভান এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের কাছে আবেদন করেন। সূত্রবরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনও ভারত বা চীনের সাথে সম্ভাব্য শুল্ক নিয়ে আলোচনা শুরু করেনি।
আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বারা শুল্ক আরোপ না করার সম্ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে রয়টার্স বেশকিছু পয়েন্ট উল্লেখ করেছে। আর সেগুলি হলো:
- EU-এর শুল্ক নির্বাচনের প্রক্রিয়া ভিন্ন। তারা তদন্তের পর শুল্ক আরোপ করে, যা আইনগত ভাবেও যথাযথ। এখনও পর্যন্ত রাশিয়া ইউক্রেন যদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কেবল রাশিয়ান এবং বেলারুশিয়ান সার এবং কৃষি পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করেছে। অর্থাৎ কেবল ট্রাম্পের কথা শুনে এমন সীদ্ধান্ত নেবেন EU।
- এছাড়া ভারত EU-এর মধ্যে একটি বানিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায় রয়েছে, উভয় দেশ চলতি সপ্তাহে সেই বিষয় আলোচনাও করবে। আর চুক্তির মাধ্যমে কৃষি, ডেয়ারি এবং শুল্ক ব্যতীত পণ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখার পরিকল্পনা চলছে।
- গত দুই দশকে ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মোট বাণিজ্য ৩০০% বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে ভারত বিশ্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সপ্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে স্থান পেয়েছে, যার আমদানি ছিল ৭১.২৮১ বিলিয়ন ইউরো। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ব্লক ছিল বিশ্বের চতুর্থ বাণিজ্যিক অংশীদার, আমদানির দিক থেকে। যার আমদানি ছিল ৪৫.২৮৬ বিলিয়ন ইউরো। অর্থাৎ বাণিজ্যে আঘাত আনার কথা ভাবছে না EU।
- প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর বিবৃতি অনুসারে, ২০২৩-২৪ সালে EU- এর সাথে ভারতের দ্বিপাক্ষিক পণ্য বাণিজ্য ছিল ১৩৭.৪১ বিলিয়ন ডলারের। যা এটিকে পণ্যের ক্ষেত্রে ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার করে তুলেছে। এছাড়াও, ২০২৩ সালে ভারত এবং ইইউর মধ্যে পরিষেবা ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আনুমানিক ৫১.৪৫ বিলিয়ন ডলার।
- ভারত থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আমদানির মধ্যে রয়েছে প্রধানত যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক, বেস মেটাল, খনিজ পণ্য এবং বস্ত্র। যেখানে ভারতে ব্লকের প্রধান রপ্তানির মধ্যে রয়েছে যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রপাতি, পরিবহন সরঞ্জাম এবং রাসায়নিক। যেমনটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওয়েবসাইটের তথ্য থেকে দেখা যায়। অর্থাৎ দুই দেশ একে অপরের দৈনন্দিন জীবনের সাথে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাহায্য করছে।




