Article By – সুনন্দা সেন

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং শেয়ার বাজারের অনিয়ন্ত্রিত ভাবে ওঠা-নামার কারণে ভারতীয় শীর্ষ ধনীব্যক্তি তথা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীরা এক ঝটকায় ৩০.৫ বিলিয়ন ডলার বা ২.৬ লক্ষ কোটি টাকা হারিয়েছেন। আর এর বেশিরভাগই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী পারস্পরিক শুল্ক নীতির কারণে হয়েছে। যা বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য উত্তেজনা তীব্র করছে এবং বাজারে অস্থিতিশীলতার দিকে পরিচালিত করছে। শেয়ার বাজারের এই পতন ভারতের কিছু প্রভাবশালী বিলিয়নেয়ারদের উপর প্রভাব ফেলেছে। যার মধ্যে রয়েছেন মুকেশ আম্বানি, গৌতম আদানি, শিব নাদের, সাবিত্রী জিন্দাল, দিলীপ সাংঘভি এবং আজিম প্রেমজি।
ভারতের সবচেয়ে ধনীব্যক্তি মুকেশ আম্বানির সম্পদ ২০২৫ সালের এই পর্যন্ত ৩.৪২ বিলিয়ন ডলার কমেছে। সেই কারণে আম্বানি বিশ্বের শীর্ষ ১০ জন ধনীব্যক্তির তালিকা থেকে ছিটকে বেরিয়ে ১৭ তম স্থানে পৌঁছে গেছে। রিলায়েন্স প্রতিষ্ঠাতার বর্তমানে সম্পদ দাঁড়িয়েছে ৮৭.২ বিলিয়ন ডলারে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার এই বছর প্রায় ০.১% হ্রাস পেয়েছে। আর জিও ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের শেয়ারের দাম ২৪% কমেছে। বর্তমান স্টক মার্কেটের অবস্থান এবং নেগেটিভ মার্কেট সেন্টিমেন্টের কারণে গৌতম আদানির সম্পদ ২০২৫ সালের এই পর্যন্ত ৬.৫ বিলিয়ন ডলার কমেছে। ভারতীয় বিলিয়নেয়ার নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হওয়ায় বেশি পতন দেখেছে। আর আদানি গ্রুপের প্রধান কোম্পানি আদানি এন্টারপ্রাইজ এই বছরে ৯% ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
সাবিত্রী জিন্দালের সম্পদের পরিমাণ ২.৪ বিলিয়ন ডলার কমেছে। ভারতের শীর্ষ বিলিয়নেয়ারদের মধ্যে আর একজন HCL টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা শিব নাদার ১০.৫ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন। আর এর পেছনে রয়েছে ২০২৫ সালে ভারতীয় শেয়ার বাজারের উল্লেখযোগ্য সংশোধন। সেনসেক্স এবং নিফটির মতো বেঞ্চমার্কগুলি গত বছরের তুলনায় ৪.৫% কমেছে। BSE মিডক্যাপ এবং স্মলক্যাপের মতো বিস্তৃত সূচকগুলি আরও তীব্রভাবে হ্রাস পেয়েছে। আর তার পরিমাণ যথাক্রমে ১৪% এবং ১৭%-এরও বেশি। এছাড়াও এই মন্দার পেছনের আর একটি কারণ হলো বৃহৎ পরিসরে বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বা PII-এর বহির্গমন।




