Article By – সুনন্দা সেন

তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা কেপলারের মতে, রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি চলতি মাসে ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। যা তুলে ধরছে যে কীভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US)-এর কঠোর নিষেধাজ্ঞাগুলি সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপলাই চেনকে ব্যাহত করছে। ২০২৪ সালে দেশটি মস্কোর জলপথ দ্বারা লেনদেন বহির্ভুত ক্ষেত্র বৃহত্তম ক্রেতা ছিল। ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ভারতের আগামী দুই মাসে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেলের আমদানী কমে যাবে। আর এর অন্যতম কারণ হিসাবে ট্রাম্পের দ্বারা আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। জলপথ দ্বারা রাশিয়ান তেল আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে।
তথ্য অনুসারে, রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি জানুয়ারি মাসের তুলনায় ১৪.৯% কমে ফেব্রুয়ারিতে গড়ে প্রতিদিনের প্রায় ১.৪ মিলিয়ন ব্যারেল দাঁড়িয়েছে। তবে একদিকে হ্রাস পেলেও সাউথ এশিয়ান দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী ইরাকের চালান ৮.৩% বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আবার সৌদি আরব থেকে গত মাসের তুলনায় ০.৭% কম তেল এসেছে। কেপলারের তথ্য অনুসারে, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল কনজিউমার (গ্রাহক) দেশটির পরিশোধক কোম্পানিগুলি রাশিয়ান তেলের ব্যারেলের ক্ষতিপূরণ হিসাবে নাইজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, মেক্সিকো এবং কলম্বিয়া থেকে আগের থেকে বেশি পরিমাণে তেল কিনেছে।
রাশিয়ান তেলের ঘাটতি পূরণের জন্য পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির তেল আমদানি ভারতে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরাক এবং সৌদি আরবের মতো দেশগুলি দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির প্রধান রপ্তানিকারক ছিল। ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে এশিয়ায় অপরিশোধিত তেল আমদানি প্রায় ৩% কমেছে। যার ফলে পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলির সংগঠন OPEC এবং অন্যান্য বিশ্লেষকদের চলতি বছরের জন্য চাহিদা বৃদ্ধির দৃঢ় পূর্বাভাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ভারত প্রথম দুই মাসে ৪.৯৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানি করেছে। যা গত বছরের একই সময়ের ৪.৭০ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে ২৮০,০০০ ব্যারেল বেশি।




