Article By – সুনন্দা সেন

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা বাণিজ্য আলোচনায় নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। কেন্দ্রের বাণিজ্য সচিব সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ভারত-মার্কিন অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি “sooner than later”, অর্থাৎ খুব শিগগিরই চূড়ান্ত হতে পারে। এই মন্তব্যে শিল্পমহল ও রপ্তানিকারীদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। বাণিজ্য সচিব জানান, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনা এখন অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যের পথে এগোচ্ছে।
ইতিমধ্যেই একাধিক দফা বৈঠক হয়েছে, যেখানে শুল্ক হ্রাস, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং কিছু বিতর্কিত বাণিজ্য ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁর কথায়, উভয় দেশই আলোচনাকে দ্রুত বাস্তব রূপ দিতে আগ্রহী। এই সম্ভাব্য অন্তর্বর্তী চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানো। বিশেষ করে IT পণ্য, ফার্মাসিউটিক্যালস, টেক্সটাইল, কৃষিজ পণ্য এবং পরিষেবা খাতে ভারতীয় রপ্তানিকারীরা বড় সুবিধা পেতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক ও নীতিগত বাধার কারণে অনেক ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতা কমে যায়, সেই সময় এই চুক্তি সেগুলিকে কিছুটা হলেও লাঘব করতে পারে।
সরকারি সূত্রের মতে, এই অন্তর্বর্তী চুক্তি ভবিষ্যতের একটি বিস্তৃত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (FTA) ভিত্তি তৈরি করতে পারে। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য স্থির করেছে। সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে এই প্রাথমিক চুক্তিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সবকিছু এখনও পুরোপুরি চূড়ান্ত নয়। কৃষিপণ্য, ডেটা নীতিমালা এবং সরকারি ভর্তুকির মত সেনসিটিভ বিষয় নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে মতপার্থক্যও রয়ে গেছে। তাই নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা না করলেও সরকার স্পষ্ট করেছে যে আলোচনা ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে তা ভারতের রপ্তানি, শিল্পোৎপাদন এবং কর্মসংস্থানের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে ভারত-মার্কিন অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।




