buzywithinfoBuzy With Info
Everything About Business
LNG

হরমুজ প্রণালীর সংকটে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে কাতার! প্রভাব ভারতীয় বাজারেও

Article By – সুনন্দা সেন

Untitled design 2024 08 09T113155.925

ছয় মাস ধরে চলা মার্কিন-ইরান যুদ্ধের বড় অর্থনৈতিক ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় উঠে এসেছে কাতারের নাম। যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা সংকটের জেরে কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা LNG (Liquefied Natural Gas) রপ্তানি প্রায় ৯৬% কমে গেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত ছয় মাসে কাতার থেকে মাত্র ১৮টি LNG কার্গো বেরিয়েছে। যেখানে একই সময়ে আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ৫০৯টি। অর্থাৎ বিশ্বের অন্যতম বড় LNG রপ্তানিকারক দেশটির আন্তর্জাতিক গ্যাস সরবরাহ কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। আর এর সরাসরি আর্থিক প্রভাবও বিশাল। 

July 18 New in article ads By Sir

গ্যাস বিক্রি কমে কাতারের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে হিসাব করা হচ্ছে। কাতারের অর্থনীতিতে LNG অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই এই ধাক্কা শুধু রপ্তানি কমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাথে সরকারি আয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়েছে। আন্তর্জাতিক এনার্জি এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, কাতারের প্রায় ৯৩% LNG রপ্তানি হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। যার ফলে হরমুজে যুদ্ধজনিত ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় কাতারের গ্যাস ট্যাঙ্কার চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যহত হয়েছে। শুধু জাহাজ চলাচল নয়; কাতারের LNG পরিকাঠামোও হামলার ঝুঁকিতে পড়েছে। সাথে দুটি কাতার LNG ট্যাঙ্করে হামালার ঘটনাও ঘটেছে। 

এমন পরিস্থিতিতে লাভবান হচ্ছে মার্কিন LNG ইন্ডাস্ট্রি। কাতারের সরবরাহের ঘাটতি পূরণ করতে মার্কিন LNG রপ্তানি বেড়েছে। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিশ্ব LNG বাজার (Global Lng market)-এ সরবরাহের মানচিত্রই বদলে দিচ্ছে। তবে এর বড় চাপ পড়ছে ইউরোপে। যুদ্ধের কারণে গ্যাস সরবরাহ কমার পাশাপাশি ইউরোপের গ্যাস মজুতও বছরের এই সময়ের তুলনায় ঐতিহাসিকভাবে নীচের দিকে রয়েছে। তাই শীতের আগে পর্যাপ্ত LNG না পাওয়া গেলে ইউরোপে গ্যাসের দাম ফের বড়সড়ভাবে বৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে। কারণ ইরান-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুধু তেল বাজারের সংকট তৈরি করেনি, বরং LNG বাজারেও একটি বড় সরবরাহে আঘাত করেছে।

এই গ্যাস-সরবরাহ সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের ওপরও। এপ্রিল-জুলাইয়ে দেশের প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি বিল ২৪% বেড়ে ৫.৬ বিলিয়ন ডলার হয়েছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে তা ছিল ৪.৫ বিলিয়ন ডলার। অথচ আমদানির পরিমাণ বেড়েছে মাত্র ৫%—১১%, অর্থাৎ ২৬৯ mmscmd থেকে ১১,৮৬৭ mmscmd। অর্থাৎ ভারতের অতিরিক্ত খরচের মূল কারণ বেশি গ্যাস আমদানি নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়া। একই সময়ে ভারতের গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরতাও ৪৯.৩% থেকে বেড়ে ৫১.৭%-এ পৌঁছেছে, ফলে দীর্ঘস্থায়ী পশ্চিম এশিয়ার সংকট জ্বালানি খরচ ও শিল্পের উৎপাদন ব্যয়ের ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে।

BWI 600 x 200

Leave a Reply

Discover more from Buzy With Info

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading