Article By – সুনন্দা সেন

নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর ধ্বংস হয়ে যাওয়া পরিকাঠামো পুনর্গঠনে কমপক্ষে ৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নেপালের একমাত্র বিলিয়নিয়ার বিনোদ চৌধুরী। গত ২৬ আগস্ট নেপালের চিন সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় প্রবল আকস্মিক বন্যা আছড়ে পড়ে। এর জেরে বহু গ্রাম, রাস্তা, সেতু এবং বিদ্যুৎ পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে অন্তত ৪৬৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে এবং প্রায় ১,২০০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
চৌধুরী গ্রুপের চেয়ারম্যান বিনোদ চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, পুনর্গঠনের চূড়ান্ত খরচ এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। তবে মোট বিল ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছলে তিনি অবাক হবেন না। তাঁর মতে, শুধু অর্থের বিষয় নয়, নেপালের দুর্গম হিমালয় ভূপ্রকৃতির কারণে পুনর্গঠন করতে বেশ কয়েক বছর সময়ও লাগতে পারে। বন্যার ধাক্কায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কার্যকলাপ স্বাভাবিক করাও নেপাল সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চৌধুরী গ্রুপ ইতিমধ্যেই সরকার, স্থানীয় প্রশাসন এবং সেনাবাহিনীর সঙ্গে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে যুক্ত হয়েছে। সংস্থাটি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্র গড়ে তোলার পাশাপাশি পরবর্তী পর্যায়ে বাড়ি, স্কুল এবং স্থানীয় ব্যবসা পুনর্গঠনে সহায়তা করার পরিকল্পনা করছে। ২০১৫ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পরও নেপালে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন অভিযান চালানো হয়েছিল। এবার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং দুর্গম এলাকায় পরিকাঠামো পুনর্নির্মাণের জটিলতার কারণে সেই অভিজ্ঞতার থেকেও বড় আর্থিক ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে দেশটি।
অর্থাৎ, এই বিপর্যয় শুধু মানবিক সংকট নয়; বিষয়টি নেপালের অর্থনীতি, পরিকাঠামো এবং সরকারি ব্যয়ের উপরও দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করতে পারে।




