Article By – সুনন্দা সেন

মার্কিন সিনেটে রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল বড় ব্যবধানে এগিয়েছে। এই বিলে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে রাশিয়ার ফুয়েল, বিশেষ করে তেল ও গ্যাস বড় পরিমাণে কিনছে এমন দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০% পর্যন্ত আমদানি শুল্ক (tariff) আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। ভারত ও চীন রাশিয়ার তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হওয়ায় তাদের নাম আলোচনায় এসেছে। তবে এটি এখনও কার্যকর আইন নয়। সিনেটে প্রাথমিক ধাপ অতিক্রম করলেও বিলটি আরও ভোটে পাস হতে হবে, এরপর প্রতিনিধি পরিষদের অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন।
এছাড়া বিলে প্রেসিডেন্টের জন্য জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা মওকুফ (Waiver)-এর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আর এই বিল আইন হলে ভারতের রপ্তানি, জ্বালানি আমদানি প্রাপ্ত ব্যয় ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বানিজ্যিক সম্পর্কের ওপর বড় প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক তেলের বাজার, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বিনিয়োগকারীদের মনোভাবকেও অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। তবে বিলটি এখনও আইন না হওয়ায়, বাস্তবে ১০০% শুল্ক কার্যকর হবে কি না, তা পরবর্তী আইন প্রণয়ন ও প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
বাজার বিশ্লেষকদের বড় অংশের ধারণা, এই বিলটি মূলত আলোচনার টেবিলে চাপ তৈরির একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক হাতিয়ার। কারণ ভারত ও চীনের মতো বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর সরাসরি ১০০% শুল্ক আরোপ করলে মার্কিন ব্যবসা ও ভোক্তার ওপরও ব্যয় বেড়ে যাবে। তাই অনেক বিশেষজ্ঞের ধারণা, বিলটি আইন হলেও প্রেসিডেন্ট শুল্ক আরোপের ক্ষমতাকে নির্বাচিতভাবে বা আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন, সর্বক্ষেত্রে নয়।




