Article By – সুনন্দা সেন

রাশিয়া ভারতের সঙ্গে শক্তি খাতের বাইরে যৌথ উদ্যোগ বা জয়েন্ট ভেঞ্চারে বড় বিনিয়োগের দিকে জোর দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ভারত–রাশিয়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক মূলত তেল, গ্যাস ও পারমাণবিক শক্তির মতো এনার্জি সেক্টরকেন্দ্রিক থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে মস্কো এই সম্পর্ককে আরও বহুমুখী করতে চাইছে। বিশেষ করে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া এখন ভারতের মতো বড় ও দ্রুত বর্ধনশীল বাজারে নতুন শিল্প ও প্রযুক্তিভিত্তিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার কৌশল নিয়েছে। রাশিয়ার লক্ষ্য মূলত প্রতিরক্ষা উৎপাদন, ভারী শিল্প, ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মাসিউটিক্যালস, কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অবকাঠামো খাতে ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ বাড়ানো।
উল্লেখিত সেক্টরে যৌথ ভেঞ্চারের মাধ্যমে রাশিয়া একদিকে যেমন নতুন বাজারে প্রবেশ করতে পারবে, অন্যদিকে ভারত পাবে প্রযুক্তি স্থানান্তর, উৎপাদন দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, “মেক ইন ইন্ডিয়া” উদ্যোগের সঙ্গে এই ধরনের সহযোগিতা ভালোভাবেই মানানসই। ভারতের দিক থেকেও এই আগ্রহকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে চাইছে এবং এনার্জি সেক্টরের বাইরে বৈচিত্র্য আনা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করলে ভারতীয় সংস্থাগুলি উন্নত প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ও ভারী যন্ত্রপাতি তৈরির ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পেতে পারে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলির জন্য এটি নতুন সুযোগের দরজা খুলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশলগত পরিবর্তন ভারত–রাশিয়া সম্পর্কের গভীরতাও বাড়াবে। শুধু তেল ও গ্যাসের লেনদেনের মধ্যেই সম্পর্ক সীমাবদ্ধ না রেখে যদি উৎপাদন, গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নে যৌথ কাজ বাড়ে, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের অর্থনীতির জন্যই লাভজনক হবে। একই সঙ্গে, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে রাশিয়ার জন্য ভারত একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অর্থাৎ বলা চলে যে এনার্জি সেক্টরের বাইরে যৌথ উদ্যোগে বড় বাজি ধরার মাধ্যমে রাশিয়া ভারতীয় বাজারে নিজের উপস্থিতি আরও মজবুত করতে চাইছে। আর ভারতের কাছে এটি শুধুই বিদেশি বিনিয়োগ নয়, বরং শিল্পোন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যের পথে একটি কৌশলগত সুযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।




