ভারতের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে ইউক্রেনের যুদ্ধ। রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধের কারণে ইউরোপীয় দেশগুলিতে 155 মিমি আর্টিলারি শেলগুলির চাহিদা বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। তাতেই বড় সুযোগ পেয়ে গিয়েছে ভারতীয় বেসরকারি সংস্থাগুলি। যুদ্ধে প্রয়োজনীয় 155 মিমি আর্টিলারি শেলগুলির চাহিদা মেটাতে উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করেছে বেশ কিছু কোম্পানি। দেশের জিডিপি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে এই কোম্পানিগুলি।
আগামী 2027 সালের মধ্যে, দেশে 155 মিমি শেল তৈরির বার্ষিক ক্ষমতা তিন লাখে পৌঁছে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এর মধ্যে সরকারি কোম্পানিগুলির উৎপাদন অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ইউরোপের চাহিদা অনুযায়ী শুধুমাত্র দেশে 155 মিমি আর্টিলারি শেলগুলির উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করেনি, বরং দেশের সংশ্লিষ্ট সরবরাহ চেইন ইকোসিস্টেমকেও বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চলছে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে। এই কারণে বিশ্বব্যাপী বেড়েছে গোলাবারুদের চাহিদা। পশ্চিমা দেশগুলি ইউক্রেনে গোলাবারুদ সরবরাহে নিয়োজিত। তাই তাদের মজুদ দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে খবর। চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সারা বিশ্বে অর্ডারে ব্যাকলগ দেখা দিয়েছে। তাই বলাই বাহুল্য, ভারতীয় কোম্পানিগুলির জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ। আগামী দিনে দেশের জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার পাশাপাশি দেশের শত শত কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করবে এই খাত।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এর মতে, 2023-24 সালে দেশের প্রতিরক্ষা খাতে উৎপাদন 1.27 লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছবে। এই সময়ের মধ্যে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি দাঁড়িয়েছে 21,083 কোটি টাকা। যা গত বছরের তুলনায় 32.5 শতাংশ বেশি। ইউক্রেন যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি চাহিদা 155 মিমি হাউইৎজার রাউন্ড। আমেরিকা ইউক্রেনে 1.5 মিলিয়ন রাউন্ড পাঠানোর পরেও চাহিদা বাড়ছে ইউক্রেনের। 155 মিমি রাউন্ডটি একটি বিশাল বুলেটের মতো, যা চারটি অংশে বিভক্ত। এর একটি অংশকে ডেটোনেটিং ফিউজ, অন্যটিকে প্রজেক্টাইল, তৃতীয়টিকে প্রপেলান্ট এবং চতুর্থটিকে প্রাইমার বলা হয়। 155 মিমি শেল অনেক উপায়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের তৈরি করেছিল সময় ফরাসিরা। তারপর অবশ্য এই শেলে অনেক পরিবর্তন এসেছে।
Article By – আস্তিক ঘোষ






