Article By – সুনন্দা সেন

বাসমতি চালের মর্যাদা নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধ আরও উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে। যা EU-এর সাথে বাণিজ্য চুক্তির জন্য দিল্লির প্রচেষ্টাকে জটিল করে তোলার থ্রেট দিচ্ছে। দক্ষিণ এশীয় দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলি বিশ্বের বৃহত্তম শষ্য উৎপাদনকারী এবং উভয় দেশ একচেটিয়া ভাবে রাজত্ব করার কথা ভাবে। কারণ ভারত-পাকিস্তান একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বাসমতি চাল উৎপাদন করে। সাথে উচ্চ লেবেলের বাসমতি চালের উৎপাদনের জন্য বিড করে ও প্রিমিয়াম চার্জ করার অনুমতি দেয়। সম্প্রতি ভারত সফলে থাকা EU কর্মকর্তাদের ভারতের বাসমতি নামকরণ যুক্ত পণ্যের ব্যবহার বা ভারতীয় বাসমতি একমাত্র বিশুদ্ধ মেনে নেওয়ার কথা জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।
EU বাজারে ভারতীয় বাসমতি শব্দটির সুরক্ষার জন্য সাত বছর অপেক্ষা করছে এবং অধৈর্য হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে ২০২৩ সালে পাকিস্তান ধানের উৎপাদন এলাকা এবং পদ্ধতি নির্ধারণের জন্য একটি প্রতিদ্বন্দ্বী আবেদন (Rival application) দাখিল করে। যার মধ্যে পাকিস্তান শাসিত চারটি জেলাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। যে এলাকাগুলিতে ভারতের অধিকারও রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। EU কর্মকর্তারা মনে করেন যে পাকিস্তানের দাবি অনুমোদনের অর্থ হবে ঐসব ভূ-খন্ডের উপর তাদের সার্বভৌমত্বের দাবি কার্যত স্বীকার করা। যা আবার ভারতের সাথে EU-এর বাণিজ্যিক সম্পর্ক নষ্ঠ করবে। তাই তারা বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের আগে সময় অপচয় করার সাথে সমস্ত বিষয় আবারও বিবেচনা করে দেখছে।
অবশ্য নয়াদিল্লির বিদেশ ও বাণিজ্য কর্মকর্তারা মন্তব্যের জন্য অনুরোধের জবাব দেননি। কিন্তু এদিকে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রের উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিরা বলছেন, সাধারণ চালের তুলনায় বাসমতি চাল প্রতিটন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ ডলারে বেশি মূল্যে বিক্রি হয়। তাই রপ্তানি বন্ধ হলে এটি রপ্তানিকারকদের জন্য একটি বড় ক্ষতি হিসাবে প্রকাশ পাবে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল EU- এর একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সফরের পর বলেছেন যে আমাদের দেশ অর্থাৎ ভারত একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য ব্লকের সাথে কাজ করছে। যা “উভয় পক্ষের ব্যবসা এবং ভোক্তাদের উপকার করবে”।




